বিসর্জনে নিষেধ ক্রেনের ব্যবহার দশমীতে তুঙ্গে দক্ষ কুলি দলের চাহিদা
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  ঠাকুর বিসর্জনে বিশেষ দক্ষ কুলিদের বুকিং করার ব্যস্ততা শুরু হয় দশমীর সকাল থেকেই। কুমোরটুলিসহ কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে। কুলিরা আসেন বিভিন্ন জেলা থেকে। পার্শ্ববর্তী হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগনার পুজো উদ্যোক্তারাও এই কুলিদের উপর নির্ভর করেন। এবছর ক্রেন ব্যবহার করে বিসর্জনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাজ্য। তাই এই কুলিদের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সকাল সকালই বিভিন্ন জায়গার পুজো কমিটিগুলি বুকিং করে নেয় তাঁদের। চাহিদা বেশি থাকায় একটি কুলির দলকে বুকিং করে বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে হয় কলকাতার আশপাশের একাধিক পুজো কমিটিকে। 

Advertisement

মূলত কলকাতার পার্শ্ববর্তী তিন জেলার গ্রামীণ এলাকা থেকে প্রতিবছর মণ্ডপে ঠাকুর নিয়ে যাওয়ার সময় এবং বিসর্জনের সময় কুমোরটুলি এলাকায় এসে ভিড় জমায় এই কুলির দলেরা। তাদের মধ্যেই একাধিক দলকে বিসর্জনের ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে কলকাতার ঘাটে ঘাটে। আবার একেবারে গাড়ি ভাড়া করে বেশকিছু দলকে নিজেদের পুজো প্যান্ডেলে নিয়ে গিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। একটি এলাকার একাধিক পুজো বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে একটি কুলির দলের উপর ভরসা করেই। পুলিশকে আগে থেকে জানিয়ে রাখা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিসর্জনের বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের। সেক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কুলিকে দিয়ে বিসর্জন সুনির্দিষ্ট করেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা।হাওড়ার একটি পুজো কমিটির এক সদস্য বলেন, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত কুমোরটুলি এবং তার সংলগ্ন এলাকায় তন্নতন্ন করে খুঁজেও বুকিং হয়নি। পাওয়া যায়নি এমন একটিও কুলির দল। শেষমেশ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে একটি দল কুমোরটুলিতে দুপুর আড়াইটে নাগাদ পৌঁছানোয়ে তারা হাওড়ার মণ্ডপে যেতে রাজি হয়। এতেই হয় শেষরক্ষা। হাওড়া এলাকার প্রায় পাঁচটি দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন করে ওরা। 
তবে এজন্য অতিরিক্ত অন্যায্য টাকা দাবি করতে দেখা যায়নি তাদের। একটি দলের সর্দার শম্ভু হালদার বলেন, আমরা পেটের টানে এই কাজ করতে আসি। একটার জায়গায় অনেকগুলি ঠাকুর বিসর্জন দিতে পারলে তাতে আমাদের যা আয় হয়, তাতেই আমরা খুশি। অন্যায্য বেশি টাকা দাবি করার দরকার পড়ে না।