নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি যখন প্রায় চূড়ান্ত এবং যে কোনো সময় স্বাক্ষরিত হবে। তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাত ভারত সরকারের মাথায়। আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি কমিটি ভারতের উপর সাড়ে ১২ শতাংশ নয়া শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। একা ভারত নয়। মোট ৬০টি দেশের উপরই শ্রম সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জেরে এই শুল্ক বলবৎ করা হচ্ছে। কিন্তু যেখানে সিংহভাগ দেশেই ১০ শতাংশ ট্যাক্সের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে ভারতের উপর চাপানোর প্রস্তাব সাড়ে ১২ শতাংশ। ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) বুধবার এই মমেই রিপোর্ট পেশ করেছে। এক মাস ধরে চলা একটি তদন্তে দেখা গিয়েছে, জোর করে শ্রম আরোপ করে পণ্য উৎপাদনে বাধা দেওয়ার কাজ করেনি ভারত সহ অন্য দেশগুলি। এর জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, সেটি নেয়নি। তাই এই জরিমানা। এই কমিটির বক্তব্য, আমেরিকা সহ অনেক দেশে এরকম বেআইনি শ্রম দিয়ে পণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও সাজা রয়েছে। সেই কারণে, ওই ৬০ দেশের সঙ্গে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় সামঞ্জস্য থাকছে না। আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সময় রয়েছে। অর্থাৎ আলোচনা, আবেদন, তদন্তের শুনানি চলছে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমেরিকা সরকার এরপর ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইউএসটিআর এককভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে এবং সরকার কিছুই জানে না, এরকম অসম্ভব। তাই আড়ালে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যা ভারতকে আরও আতঙ্কিত করেছে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পর থেকে ক্রমেই জ্বালানি সংকটের জেরে ভারতের অর্থনীতি টালমাটাল। প্রাথমিকভাবে যতটা সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে, ভারত আর্থিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছে। অন্য দেশের তুলনায় ভারত ভালো অবস্থানে আছে, সেই আত্মবিশ্বাস ক্রমেই কমেছে। বরং উলটে এখন বেশি করে সংকট জাঁকিয়ে বসেছে। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন, কৃচ্ছ্রসাধন করতে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও আশংকার বার্তা শোনাচ্ছেন। এই নতুন ট্যাক্স যদি সত্যিই ভারতের উপর বলবৎ হয়, তাহলে ভারতের রপ্তানি আবার মার খাবে। উৎপাদনও বাধাপ্রাপ্ত হবে।



