


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতীয় পণ্যে চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে ওই শুল্কের হার ৩ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা বলা হয়। এরইমধ্যে মার্কিন শুল্কের চাপে ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে সিআইআই, ফিকি, এফআইইও’র মতো বণিকসভা। সম্প্রতি বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে লিখিতভাবে কোন ক্ষেত্রে কী ক্ষতি হতে পারে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে। যা সামনে রেখে কমিটির চেয়ারপার্সন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন সরকারের মতামত জানতে চেয়েছেন।
শুধু তাই নয়। সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতির বহর দেখতে আগামী ১০ জুন মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাতের আমেদাবাদ যাচ্ছে কমিটি। রত্ন-গয়না ব্যবসায় মার্কিন শুল্কের কী প্রভাব পড়ছে, তার হাতে গরম তথ্য সংগ্রহ হবে। একইভাবে আরো দুই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যেও যাবে সংসদীয় কমিটি। ১১ জুন ছত্তিশগড়ের রায়পুরে যাবে কৃষিতে প্রভাব দেখতে। পরের দিন ইস্পাত শিল্পে প্রভাব খতিয়ে দেখতে ওড়িশার ভুবনেশ্বর পৌঁছবে কমিটি। বিশেষ সূত্রে খবর, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বণিকসভা সিআইআইয়ের (কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, টেক্সটাইল, ফাউন্ড্রি, সোলার ম্যানুফাকচারিং, অটো কম্পোনেন্টস এবং ইস্পাত শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। একইভাবে ফিকি (ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)র প্রতিনিধিরা জেমস অ্যান্ড জুয়েলারির ওপর ব্যাপক কুপ্রভাব পড়ছে বলেই জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের বাড়তি শুল্কের কারণে জেরে রপ্তানি কমে গিয়েছে ৪৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে ভারত ৩২ হাজার ৭০৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের জেমস-জুয়েলারি রপ্তানি করেছিল, ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে হয়েছে ২৮ হাজার ২০৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে সহজেই অনুমেয়, কী ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এফআইইও (ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস)র প্রতিনিধিরা ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, কেমিক্যালস, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেক্সটাইলের পাশাপাশি জেমস-জুয়েলারির ওপর রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। বণিকসভার প্রতিনিধিদের ওই মতামতের পরেই রেণুকা চৌধুরী, আনন্দ বাদাউরিয়া, শ্রেয়াস প্যাটেলের মতো বিজেপি বিরোধী সাংসদরা সরব হন। সরকার কেন শুল্ক কমিয়ে ভারতের স্বার্থ দেখছে না, প্রশ্ন তোলেন। বিজেপির নিশিকান্ত দুবে রপ্তানি কীভাবে বাড়তে পারে, তার প্রস্তাব দিয়ে সরকারের পক্ষে বৈঠকের মোড় ঘোরাতে চাইলেও সফল হননি। সংসদীয় কমিটি ঠিক করেছে, বাস্তব চিত্র চাক্ষুস করতে হবে স্টাডি ট্যুর।