ওয়াশিংটন: ২০১৮ সালের পর ফের ২০২৫। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ফের ‘শাটডাউন’ আমেরিকাজুড়ে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যত অচল হয়ে গেল ট্রাম্প প্রশাসন। জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার প্রশাসনের তহবিল সংক্রান্ত বিল অনুমোদন করেনি মার্কিন সেনেট। তার জেরেই এই ‘শাটডাউন’। সূত্রের খবর, আজ, শুক্রবার পর্যন্ত (মার্কিন সময়) এই ‘শাটডাউন’ চলতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুক্রবার ফের একপ্রস্থ ভোটাভুটিতে যেতে পারেন সেনেট সদস্যরা। তাতেও যদি সমাধানসূত্র না মেলে, সমস্যা বাড়তে পারে।
সূত্রের খবর, এই ‘শাটডাউন’ এড়ানোর জন্য দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন মার্কিন সেনেটের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্যরা। কিন্তু তহবিল নিয়ে একমত হতে পারেননি তাঁরা। মূলত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে খরচ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ তুঙ্গে ওঠে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একে অপরকে দুষতে থাকেন। কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের তরফে ‘শাটডাউন’-এর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। যদিও একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ‘শাটডাউন’-এর জন্য রিপাবলিকানদের দিকেই আঙুল তুলছেন আমেরিকানরা। যদিও পাল্টা সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা পরিস্থিতির জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, এর ফলে বেশ কিছু ছাঁটাই হতে পারে। সেই তালিকায় ডেমোক্র্যাটদের থাকার সম্ভাবনাই বেশি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম দফাতেও মার্কিন প্রশাসন ৩৫ দিনের জন্য অচল হয়ে পড়েছিল। মার্কিন ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সেটাই সবচেয়ে বড় ‘শাটডাউন’।
‘শাটডাউন’ কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। চলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতি অর্থবর্ষে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে মার্কিন কংগ্রেস। যদি এই সময়ের মধ্যে সেনেট সদস্যরা ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে একমত না হন, তাহলে বিভিন্ন দপ্তরের কাজ থেমে যায়। কংগ্রেস থেকে অর্থ বরাদ্দ না করা পর্যন্ত ওই দপ্তরগুলি বন্ধ থাকে। এদিকে, সরকারি তহবিল সংক্রান্ত বিল পাশ করাতে হলে তার পক্ষে অন্তত ৬০টি ভোট প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ১০০ সদস্যের মার্কিন সেনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩। ফলে বিল পাশ করাতে কমপক্ষে সাত ডেমোক্র্যাটের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি তহবিল সংক্রান্ত বিলে তা হয়নি। ফলে সেনেটের অনুমোদন মেলেনি। তার ফলে গত বুধবার থেকে শুরু হয়ে যায় ‘শাটডাউন’। দীর্ঘ সময় ধরে ‘শাটডাউন’ চললে তার প্রভাব পড়তে পারে বিমান পরিষেবা, বিনিয়োগ, গবেষণার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তবে এই ‘শাটডাউন’-এর মধ্যে মার্কিন পোস্টাল সার্ভিস, সাপ্লিমেন্ট নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আদালত, ব্যাংক চালু থাকবে। জাতীয় উদ্যান, স্মৃতিসৌধ আংশিক খোলা থাকবে। স্কুল ও লাইব্রেরিতেও আংশিক প্রভাব পড়বে।
প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও। কারণ চলতি মাসের ১৫ তারিখে মূল্য সূচক প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। এই শাটডাউন’-এর জেরে প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি কর্মী (সাড়ে ৭ লক্ষ) বিনা বেতনে ছুটিতে যেতে পারেন। সমস্যায় পড়তে পারেন পর্যটকরাও।