


ওয়াশিংটন, দুবাই ও ইসলামাবাদ: টানা ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সার। ইসলামাবাদে আলোচনার প্রক্রিয়া নিষ্ফলা। উলটে হরমুজ জট আরও জটিল হয়েছে। এই অবস্থায় ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ। তাহলে কি ফের যুদ্ধই ভবিতব্য? পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সংশয় ও আশঙ্কার দোলাচলের মধ্যে ইতিবাচক খবর আসতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা দু’দিনের মধ্যে ফের শুরু হতে পারে। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যে কিছু হতে চলেছে। পাকিস্তানের মাটিতে শান্তি বৈঠকেই তাঁরা আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। ইসলামাবাদের তরফেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দ্রুত বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা ও ইরান। তবে, তা দু’দিনের মধ্যেই হবে কি না, তা অবশ্য পাকিস্তানের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে, আলোচনার স্থান হিসাবে ইসলামাবাদের পাশাপাশি এবার জেনিভার নামও উঠে আসছে। একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এপির দাবি, আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই ফের বৈঠকে বসতে পারে যুযুধান দুই দেশ। আবার পাকিস্তানি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, দ্বিতীয় দফায় ইসলামাবাদে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে আগামী শুক্র থেকে রবিবারের মধ্যে। পাকিস্তানের ‘দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে আবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, ইরান-আমেরিকা দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হতে পারে আগামী সপ্তাহে। দুই শিবিরকে ফের আলোচনার টেবিলে আনতে সচেষ্ট হয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার ও আসিম মুনির। অর্থাৎ সংঘাতের অবসানে ফের আলোচনায় ফিরতে চাইছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান— দু’পক্ষই। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি থেকে অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান, দুই শিবির থেকেই সবুজ সংকেত মিলেছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধি দল একই থাকবে, নাকি তাতে কোনো বদল আসবে তা স্পষ্ট নয়।
নতুন করে আলোচনা শুরু নিয়ে সোমবারই ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের জানান, অপরপক্ষ থেকে (ইরান) আমাদের ফোন করে বলা হয়েছে, তারা সমঝোতার জন্য প্রস্তুত। তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সও। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠকে আমেরিকার পথেই ঝুঁকেছে ইরান। সেটা ভালো ইঙ্গিত। তবে ইরানকে আরও এগতে হবে। আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে তেহরানকেই। আমরা একথা বলে দিতে পারি না, (শান্তি আলোচনা) পুরোটাই জলে গিয়েছে। আমার মনে হয়, অনেক কিছুই সদর্থক হয়েছে। অগ্রগতিও হয়েছে অনেকটা।’