Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আরব সাগরে মার্কিন নৌবহর, এবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া ইরানের, আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি

আমেরিকাকে শায়েস্তা করতে এবার পালটা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের। রবিবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে নৌযুদ্ধের মহড়া শুরু করল তেহরান।

আরব সাগরে মার্কিন নৌবহর, এবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া ইরানের, আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২
Prefer us on Google

তেহরান: আমেরিকাকে শায়েস্তা করতে এবার পালটা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের। রবিবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে নৌযুদ্ধের মহড়া শুরু করল তেহরান। একইসঙ্গে এদিন ওয়াশিংটনকে কড়া হুমকি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনি জানান, আমেরিকা হামলা করলেই পশ্চিম এশিয়ায় আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ইরানের মানুষ। বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। খামেনেইয়ের দেশকে উচিত শিক্ষা দিতে ইতিমধ্যে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারই অংশ হিসেবে ইরানের কাছে ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। আরব সাগরে রণংদেহী মেজাজে হাজির ওয়শিংটন। এহেন অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই পদক্ষেপে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

Advertisement

গত ২৯ জানুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে দু’দিনের সামরিক মহড়া চালানোর কথা ঘোষণা করে তেহরান। সেইমতো রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ‘লাইভ ফায়ার ড্রিল’। আজও জারি থাকবে গোলাবর্ষণ। আচমকা এই সংকীর্ণ জলপথে শক্তি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত কেন নিল ইরান? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হরমুজ প্রণালী। এই অবস্থায় সেখানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর আঘাত হানতে পারে। সেই কৌশলগত সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পালটা সামরিক মহড়ায় নেমেছে তেহরান। হরমুজে উত্তেজনা বাড়লে চাপের মুখে পড়তে পারে ভারতও। হিসেব বলছে, এই করিডর দিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে নয়াদিল্লি।

সামরিক মহড়া চলাকালীন ওয়াশিংটনকে হুমকি দিয়েছেন খামেনেই। রবিবার ধমকের সুরে তিনি বলেন, ‘এবার সংঘাত শুরু হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে। আমেরিকার এটা জানা উচিত। আমরা কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চাই না। যুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার ইচ্ছাও আমাদের নেই। তবে কেউ হামলা চালালে বা বিরক্ত করলে যোগ্য জবাব দেবে আমাদের দেশ।’ কয়েকদিন আগে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তেহরানে বিক্ষোভ রুখতে আন্দোলনকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তেহরানের এই আধাসামরিক বাহিনী। তারই বিরোধিতা করে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রবিবার এবিষয় একই পথে হাঁটল ইরান। পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির সেনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন পার্লামেন্টের স্পিকার। সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ