Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপযুক্ত নথি ছাড়াই ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ বাঁকুড়ায়

উপযুক্ত নথি ছাড়াই ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ বাঁকুড়ায়
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় উপযুক্ত নথি ছাড়াই ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে সম্প্রতি বাঁকুড়া-১ ব্লকের বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। একাধিক গণস্বাক্ষর করে সেই অভিযোগ লিখিত আকারে বিডিও-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রতিলিপি বাঁকুড়ার জেলাশাসকের কাছেও জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরেও ব্লক প্রশাসনের তরফে তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। 
Advertisement
এব্যাপারে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, বর্তমানে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ বন্টন করা হয়। টেন্ডারের শর্ত কোনওভাবেই লঙ্ঘন করা যায় না। এব্যাপারে কোনও অভিযোগ জমা পড়লে ব্লক প্রশাসন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।
বাঁকুড়া-১ ব্লকের বিডিও ঋতুপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে পুজোর ছুটিতে অফিস বন্ধ রয়েছে। অফিস খোলার পর এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নথিপত্রে কোনও গড়মিল থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
এক অভিযোগকারী বলেন, বাঁকুড়া-১ ব্লক প্রশাসন কিছু কাজের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়। এক ঠিকাদার তাতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জাল ‘ক্রেডেনশিয়াল’ (কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঠিকাদারি শংসাপত্র) জমা দেন। ব্লক প্রশাসন তা খতিয়ে না দেখেই ওই ঠিকাদারকে কাজের বরাত দিয়ে দেয়। এমনকী, ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ ও ‘পেমেন্ট সার্টিফিকেটে’ নম্বর সংক্রান্ত গড়মিল ছিল। সেই বিষয়টিও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা ই঩ঞ্জিনিয়ারদের কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল, তা অনেককেই অবাক করেছে। জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে ওই ব্লকের অন্তর্গত জগদল্লা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। তাঁর নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তারপরেও ব্লক প্রশাসন কীভাবে তাঁকে কাজের বরাত দিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করেছি। 
অভিযুক্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 
উল্লেখ্য, বাম আমল থেকেই রাজ্যে ঠিকাদার রাজের সূচনা হয়। তৃণমূল জমানার শুরুর দিকে বিষয়টির উপর সরকার নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। তবে নিচুতলায় রাশ আলগা হতেই ঠিকাদাররা ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন। সিন্ডিকেট করে সরকারি কাজ ভাগ করা থেকে শুরু করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার সব কাজেই ঠিকাদারদের একাংশ সিদ্ধহস্ত। ঠিকাদাররা জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের একাংশকে ‘নজরানা’ দিয়ে দিনের পর দিন নিজেদের মৌরসিপাট্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজের গুণমান খতিয়ে দেখার দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশও কার্যত চোখ বন্ধ রেখে বিল ছেড়ে দিচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের একাংশ আবার কোনও কোনও কাজের মোট বরাদ্দকৃত অর্থের ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাবি করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার দাবি করেছেন। জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবেই ঠিকাদার রাজ কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সব ঠিকাদারই যে ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত তা অবশ্য নয়। সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে বাকিরাও ‘বাঁকা রাস্তা’ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন বলে ঠিকাদারদের ওই অংশের দাবি।   
সম্পর্কিত সংবাদ