সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বুধবার বিজেপি পরিচালিত ভাজনঘাট পঞ্চায়েতে গেরুয়া শিবিরের সদস্যদের আনা অনাস্থায় তাদের দলেরই ৩ সদস্য অপসারিত হলেন। একইসঙ্গে ওই ৩ জন আর সঞ্চালকও রইলেন না। অভাবিত এই ঘটনায় জেলার রাজনীতিগত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় একদিকে যখন রাজনৈতিক ভাবে অ্যাডভান্টেজ পেল তৃণমূল কংগ্রেস, তখন বিজেপি এই পঞ্চায়েতে অনেকইটা ব্যাকফুটে চলে গেল। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। প্রসঙ্গত, দলের সঞ্চালকরা কাজ করছেন না, এই অভিযোগ তুলে বিজেপি পরিচালিত ভাজনঘাট পঞ্চায়েতে বিজেপিরই এক পক্ষ বুধবার অনাস্থা এনেছিল। কিন্ত যাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল, তাঁরা কেউ এদিন আসেননি। ফলে এদিন বিজেপির ৩ সদস্যকে অপসারণ করা হয়। একইসঙ্গে তাঁরা সঞ্চালকও থাকলেন না। উল্লেখ্য, ১৮ আসন বিশিষ্ট ভাজনঘাট পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ জন ও বিজেপির ১২ জন সদস্য আছেন। এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১ জন ও বিজেপির ২ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আছেন। অথাৎ বুধবার দুপুরে অনাস্থায় মোট ২১ জনের উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১১ জন সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আর বিজেপির ৫ জন সদস্য ছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি পরিচালিত ভাজনঘাট পঞ্চায়েতে তাদের সদস্যরাই দলের ৩ জন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে কাজ না করার অভিযোগ কেন তুললেন? কেনই বা ৮ জন সদস্য এলেন না। এই ঘটনায় কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে কি এদিনের ঘটনার পিছনে রয়েছে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বারবার বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উড়িয়ে দিয়ে এ নিয়ে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিষ্ণু ঘোষ বলেন, একজন সদস্য প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে চক্রান্ত করেছিল। আমাদের কিছু সদস্যর মধ্যে এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেসব মিটে গিয়েছে। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের সদস্যদের আটকে রেখেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যকে করার সঞ্চালক জন্য বিডিও পুলিস ও তৃণমূলের লোকজনকে নিয়ে যা করছেন তা ঠিক নয়। আমরা এ নিয়ে আইনের পথে হাঁটব, আদালতে যাচ্ছি।’ এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, এতে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই। বিজেপির সদস্যরা তাঁদের দলের প্রধান সহ অন্য সদস্যদের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনাস্থা এনেছিলেন। কিন্ত একপক্ষ আসেনি। তাই সঞ্চালক ও সদস্যরা অপসারিত হলেন। এটা তাঁদের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। মানুষ বিজেপিকে চিনতে পারছে। এই পঞ্চায়েতে নিঃসন্দেহে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে।’ এ নিয়ে বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, ‘পঞ্চায়েত নিয়মে যা আছে তা মেনে সব করা হয়েছে। এদিন যা হয়েছে তাতে ৩ জন সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁরা আর সঞ্চালকও থাকলেন না।’



