সংবাদদাতা রানাঘাট: বেসরকারি স্কুলগুলির সঙ্গে প্রযুক্তির দৌড়ে অনেক সময় সরকারি স্কুল পিছিয়ে পড়েছে, বহু মানুষের এই অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই চেনা ছবিই বদলে দিল শান্তিপুরের কানাই বঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক স্কুল। পড়ুয়াদের সুরক্ষা ও স্কুল পরিচালনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকায় এক নতুন নজির গড়ে তুলতে চলেছে এই স্কুল। অনেক সময়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকেন অভিভাবক। সন্তান ঠিকভাবে স্কুলে পৌঁছাল কি না বা স্কুল কখন ছুটি হচ্ছে তা নিয়ে নানা আশঙ্কা কাজ করে পড়ুয়াদের পরিবারের মধ্যে। এখন সেই চিন্তার দিন শেষ হতে চলেছে। অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে তৈরি হয়েছে ‘ডিভাইন একাডেমি’ নামে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ। যার সাহায্যে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে পৌঁছালে কিংবা ছুটি হলে সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ বা নোটিফিকেশন পৌঁছাবে অভিভাবকের মোবাইলে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতিম সেন জানান, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দেওয়া আই কার্ডে রয়েছে আর.এফ.আই ডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন) প্রযুক্তি। যার ভিতরে একটি তামার কয়েল থাকে। স্কুলে ঢোকার ও বেরোনোর সময় ওই ডিভাইসের কাছে গেলেই কার্ডটি ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে। প্রতিটি আই কার্ডের নিজস্ব আইডি রয়েছে যার মাধ্যমে ডিভাইসটি চিনে নেয় কোন ছাত্র বা ছাত্রী স্কুলে ঢুকল অথবা স্কুল থেকে বেরিয়ে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই অ্যাপের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পৌঁছে যায় অভিভাবকের ফোনে। অবশ্যই এই প্রযুক্তির জন্য স্কুল বা অভিভাবকদের কোনো বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অভিভাবকরা এই পরিষেবা পাবেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, প্রযুক্তিটি আমরা কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকরা মিলেই তৈরি করেছি। শুধু পড়ুয়াদের আসা, যাওয়ার আপডেট নয়, এই অ্যাপের মাধ্যমে স্কুলের হোম ওয়ার্কও দিয়ে দেওয়া যাবে। এর ফলে অভিভাবকদের হোম ওয়ার্ক জানার জন্য আলাদা করে স্কুলে এসে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
এদিন স্কুলে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অভিনব উদ্যোগের সূচনা হয়। এদিনের কর্মসূচির উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন দাস, স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অনুষ্ঠানে বিধায়ক স্বপন কুমার দাস জানান, এই ব্যবস্থা প্রতিটি স্কুলেই চালু হওয়া উচিত। কারণ সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকেন বাবা, মায়েরা। আগামী দিনে উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতেও এই পরিষেবা চালু হলে ভাল হয়। আমি আগামী দিনে শান্তিপুর কলেজে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানাব।
স্কুলেরই এক ছাত্রীর অভিভাবক অস্মিতা দেবনাথ বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পড়ুয়ারা স্কুলে থাকলে অনেক বাবা, মা চিন্তা করেন। এই প্রযুক্তি এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছি। -নিজস্ব চিত্র