সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: যেসব উপভোক্তাকে সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পে টাকা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এবার নতুন তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিল খড়্গপুর পুরসভা। এর জন্য কাউন্সিলারদের কাছে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, সেই সব নাম যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা রাজ্য পুর উন্নয়ন নিগমের দপ্তরে পাঠানো হবে। তারপর ওরা যেরকম টাকা বরাদ্দ করবে, সেই মতো উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই এখনও বহু দরিদ্র মানুষের নিজস্ব বাড়ি নেই। তাঁরা এই ব্যবস্থায় উপকৃত হবেন। এর আগের তালিকা থেকে ৭০ জনের নাম বাদ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে অনেকে বাড়ি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অনেকের জমির কাগজ নেই। আবার তালিকায় নাম থাকা অনেকের খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য রেল এলাকার ৮টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান না।
Advertisement
এই প্রকল্পে বাড়ি তৈরির খরচ ধরা আছে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে উপভোক্তাকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ও রাজ্য সরকার দু’কোটি টাকা দেয়। পুরসভা সেই বরাদ্দ টাকা তিনটি পর্যায়ে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। প্রথম পর্যায়ের টাকা খরচের হিসেব পাঠালে দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা আসে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, এমাসের গোড়ায় আমরা এই প্রকল্পে ১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা পাই। নভেম্বর মাসে দু’কোটি, পুজোর আগে এক কোটি, লোকসভা ভোটের আগে ৯ কোটি টাকা পাই। কিন্তু জিও ট্যাগিং না হওয়ার কারণে বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা থেকে সেই সময় চার কোটি টাকা ফেরত নিয়ে নেয় দপ্তর। সেই সব টাকার বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। সেই কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এবার নতুন করে নাম পাঠাতে হবে। তারই প্রস্তুতি চলছে। ওই সূত্র জানাচ্ছে তালিকার সঙ্গে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, নিজস্ব জমির কাগজ, আধার কার্ড, ফোন নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিতে বলা হয়েছে। চেয়ারপার্সন বলেন, ১০ মার্চের ভেতর তালিকা জমা দেওয়ার কথা। এখনও প্রায় ১৭ জন কাউন্সিলার তালিকা জমা দেননি। যত দ্রুত তালিকা জমা পড়বে, আমরা চূড়ান্ত করে পুর উন্নয়ন দপ্তরে পাঠাতে পারব। তৃণমূল কাউন্সিলার তপন প্রধান বলেন, আমি তালিকা জমা দিয়ে দিয়েছি। কংগ্রেস কাউন্সিলার অপর্ণা ঘোষ বলেন, তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। জমা দিয়ে দেব। সিপিএম কাউন্সিলার জয়দীপ বোস বলেন, তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। পুরসভায় জমা দিতে গিয়েছিলাম। পরে নেবে বলেছে। এবার দিয়ে দেব।



