Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কে আবাস যোজনার টাকা ঢুকতেই মুখে হাসি ইট ব্যবসায়ীদের 

উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কে আবাস যোজনার টাকা ঢুকতেই মুখে হাসি ইট ব্যবসায়ীদের 
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি মতো বাংলার আবাস যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। আর তাই দেখে ইট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। ওই আবাস যোজনার সুবাদে এবার তাঁরা ভালো ব্যবসা পাবেন, ইট শিল্প ফের অক্সিজেন পাবে বলেই ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত। বেঙ্গল ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তথা অল ইন্ডিয়া ব্রিক অ্যান্ড টাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক  সৈয়দ সাব্বির আহমেদ মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কথা মতো মুখ্যমন্ত্রী বাংলার আবাস যোজনার কাজটি শুরু করে নির্মাণ তথা ইমারতী শিল্পকে নতুন করে উজ্জীবিত করলেন। এর ফলে শুধু ইট, সিমেন্ট, চিপস ব্যবসায়ীরা নন, ইট শিল্পের সঙ্গে যে সমস্ত শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন, তাঁরাও প্রচুর কাজ পাবেন। এলাকার অর্থনীতিতেও একটা সুফল পড়বে।’
Advertisement
সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ ঢুকতে শুরু করেছে। এই জেলার মোট ২১টি ব্লকে গ্রামপঞ্চায়েতের সংখ্যা  ২২১টি। মোট গ্রামের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৮টি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে ৫০০টি করে আবাস যোজনার বাড়ি হলে জেলায় প্রায় এক লক্ষ ১০ হাজারের আশপাশে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরি হবে। প্রত্যেকটি বাড়ির জন্য তিন হাজার ইট লাগলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য তিন কোটিরও বেশি ইটের প্রয়োজন হবে। ইটভাটার মালিকরা জানান, এক সঙ্গে এতো ইটের চাহিদা এর আগে কখনও হয়নি। শীতের মরশুমে ইট তৈরির কাজ চলে। ফলে ওই বিপুল পরিমাণ ইটের চাহিদা মেটাতে জেলার ইটভাটাগুলি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে দিচ্ছে।এই জেলায় খাতায় কলমে ইটভাটা রয়েছে ৯৮টি। তার মধ্যে ৭০টি ইটভাটা জোর কদমে কাজ করে। ইট শিল্পের সঙ্গে বেশ কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। আবাস প্রকল্পের ৭০ শতাংশ ইটও যদি জেলার ভাটাগুলি থেকে কেনা হয়, তাহলেই ইট শিল্প প্রাণ ফিরে পাবে।
বছর দুই-আড়াই আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা-সহ রাজ্যজুড়ে আবাস প্রকল্পের বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সরকারি আবাসনে প্রচুর পরিমাণ ইট লাগবে, এই আশা নিয়ে প্রশাসনের অনুরোধে ইটভাটা মালিকরা অতিরিক্ত ইট উৎপাদন করেছিলেন।  কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। ভাটাগুলিতে মজুত হয়ে যায় লক্ষ লক্ষ ইট। বিশাল সংখ্যক ইট উৎপাদন করেও তা বিক্রি হয়নি। প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ ইট ভাটাতেই মজুত রয়ে যায়।   এবার অর্থ বরাদ্দ শুরু হওয়ায় সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন ইট ব্যবসায়ীরা। সাব্বির বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী এবার আগের সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে না। কারণ রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠাতে শুরু করেছে। তাই বাড়ি তৈরির আর কোনও অনিশ্চয়তা থাকছে না।’ 
ইটভাটাগুলিতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ