লখনউ: নাম— ‘রাম নে যাদব কো মারা’। বাবার নাম— ‘মূর্খ চাঁদ যাদব’।
নাম— ‘রাম নে শর্মা কো মারা’। বাবার নাম— ‘বি.কম’।
না, কোনো কমেডি সিনেমার সংলাপ নয়। বিধান পরিষদের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় এমনই বহু ‘অদ্ভূতুড়ে’ নাম ঘিরে উত্তাল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। ‘ভোটচুরি’র ইস্যুতে এমনিতেই দেশজুড়ে শোরগোল তুঙ্গে। তার মধ্যেই যোগীরাজ্যের ১১টি বিধান পরিষদের নির্বাচনের আগে এলাহাবাদ-ঝাঁসি গ্র্যাজুয়েট আসনের ভোটার তালিকায় এইসব নামের উপস্থিতি ঘিরে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে অবশেষে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হল কর্তৃপক্ষ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, অন্তত ১৫৮টি এন্ট্রির ক্ষেত্রে ভ্রান্তি হয়েছে। কেন এই ভুল, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর থেকে এই ‘ভ্রান্তি’র দায় চাপানো হয়েছে অনুবাদে ব্যবহৃত সফ্টওয়্যারের উপর। একইসঙ্গে এবিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে ডিভিশনাল কমিশনার ও জেলাশাসকের কাছে। কিন্তু কেন এই বিপত্তি? উত্তরপ্রদেশে চালু হয়েছে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা। প্রশাসনের ব্যাখ্যা, নয়া এই ব্যবস্থায় ইংরেজি হরফে লেখা নামগুলি হিন্দি অক্ষরে রূপান্তরের সময় ‘টেকনিকাল এরর’ হয়েছে। ফলস্বরূপ, ১৪,৮১,৩১০টি এন্ট্রির মধ্যে ১৫৮টি ক্ষেত্রে ভোটার বা তাঁর আত্মীয়দের নামের ক্ষেত্রে ভুল বা অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি হয়েছে। কারণ, নামগুলিকে ওই সফ্টওয়্যার ইংরেজি থেকে হিন্দি হরফে রূপান্তরের বদলে নামের অর্থের আক্ষরিক অনুবাদ করে দেয়। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘রামহিত যাদব’কে টাইপিংয়ের ভুলে রাম ‘হিট’ যাদব লেখা হয়েছিল। সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে সেটিই অনুবাদের পর হয়ে যায় ‘রাম নে যাদব কো মারা’। অন্যান্য বহু এন্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভ্রান্তি হয়েছে। তবে বাবার নামের জায়গায় ‘বি.কম’-এর উল্লেখ মানব-ভুল বা গাফিলতির কারণে হয়েছে। ভোটার তালিকায় যাতে ভুল না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইআরও-র ভূমিকায় থাকা ডিভিশনাল কমিশনার এবং এইআরও হিসাবে কর্মরত জেলাশাসকের।
১১টি বিধান পরিষদ আসনের জন্য শুক্রবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেই নির্বাচনে ভোটারদের নাম বিভ্রান্তি সংক্রান্ত বিতর্কের আগেই পিলভিট সদর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে সরব হয়েছিল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। বিরোধীদের অভিযোগ, এই কেন্দ্রের ১৩,১৫০টি ক্ষেত্রে নাম ও বাবার নাম আলাদা হলেও একই ধরনের ভোটার কার্ড নম্বরের অস্তিত্ব রয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তের পর দেখা যায় পিলিভিটের ১০,৪৭০টি ভোটার ইন্ট্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম ছিল। কর্মরত ও প্রাক্তন দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। বরখাস্ত করা হয়েছে এক কম্পিউটার অ্যাসিসটেন্টকে। কারণ ফর্ম-৮ পূরণের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য বদলের অনিয়মে ভূমিকা ছিল ওই কম্পিউটার অ্যাসিসটেন্টের।



