Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপ নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় ভালো ফলের লক্ষ্যে বিশেষ বৈঠক তৃণমূলের

উপ নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় ভালো ফলের লক্ষ্যে বিশেষ বৈঠক তৃণমূলের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রবিবার দুপুরে উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুর এলাকা নিয়ে বিশেষ বৈঠক করল তৃণমূল নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা ছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, সাংসদ জুন মালিয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভারানি মাইতি, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান সহ পুর এলাকার অবজার্ভাররা। এদিনের বৈঠকে মূলত দ্বন্দ্ব ভুলে সকলকে একসঙ্গে ভোটের ময়দানে ঝাঁপনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে পুর প্রতিনিধিদের ভুল ধরিয়ে দেয় উচ্চ নেতৃত্ব। বেশকিছু জনপ্রতিনিধিকে বকাবকিও করে হয় বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব জানাচ্ছে, গত লোকসভা ভোটের নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে দল। ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে পিছিয়ে ঘাসফুল শিবির। 
Advertisement
এদিন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, হাতে আর বেশি সময় নেই। সকলকে একসঙ্গে লড়াই করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা থেকে প্রতিটি ভোটের তথ্য নিয়ে রিপোর্ট কার্ড তৈরি হবে। পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের জোরালো লড়াই করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। উপ নির্বাচনে জিতব আমরাই। 
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর লোকসভা নির্বাচনে গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহর এলাকায় প্রচারে ঝড় তোলে তৃণমূল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু শেষমেশ মেদিনীপুর লোকসভা আসনে তৃণমূল জিতলেও বেশিরভাগ পুর এলাকা যায় বিজেপির দখলে। এর ফলে ভোটে জিতলেও পুর এলাকার জন প্রতিনিধিদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যা একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। তাই উপ নির্বাচনের আগে পুর এলাকায় জন সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে তৃণমূল। ১, ২, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি ১৫টি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি। এমনকী পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ১০০ ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। 
এক তৃণমূল নেতার কথায়, উপ নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে লিডের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের তরফে অবজার্ভার রাখা হচ্ছে। আসলে গোষ্ঠী কোন্দলের জন্যই এই অবস্থা। এছাড়াও পুর প্রতিনিধিদের জনসংযোগ তলানিতে নেমে এসেছে। এদিনের বৈঠকে লিড কম হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই উপ নির্বাচনের সময়ও দেখা যাচ্ছে অবজার্ভারের সঙ্গে পুরসভার জনপ্রতিনিধির সেভাবে যোগযোগ হয়নি। যা খুবই দুর্ভাগ্যের। তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, পুর এলাকা থেকে রেকর্ড মার্জিনে এগিয়ে থাকব। জয় নিশ্চিত।
জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, শহরের মানুষ বারবার বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। এবারও রাখবেন বলে আশা করি। তৃণমূল লোকসভা ভোটের আগে পুর এলাকায় বিপুল ভোটে জেতার কথা বলেছিল। কিন্তু জিততে পারেনি। এবারও পারবে না।
সম্পর্কিত সংবাদ