Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে রাজি নন সিন্ধের ছেলেও, মহারাষ্ট্রে চরম বিপাকে বিজেপি

উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে রাজি নন সিন্ধের ছেলেও, মহারাষ্ট্রে চরম বিপাকে বিজেপি
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
মুম্বই: শপথগ্রহণ বৃহস্পতিবার। হাতে সময় মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সেই নিয়ে ‘মহা-নাটক’ এখনও অব্যাহত মহারাষ্ট্রে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা তো দূরঅস্ত, সোমবার দপ্তর বণ্টন নিয়ে শাসক জোটের নেতাদের বৈঠকে যোগই দিলেন না বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। ফলে দপ্তর বণ্টনও আপাতত বিশবাঁও জলে। মহাযুতির বড় শরিক বিজেপির মাথাব্যথা আরও বাড়িয়েছেন একনাথ-পুত্র তথা সাংসদ শ্রীকান্ত সিন্ধে। জল্পনা ছড়িয়েছিল, বাবার ক্ষোভ সামাল দিতে ছেলেকে উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এক্স হ্যান্ডলে শ্রীকান্ত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মহারাষ্ট্রের কোনও মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিতেই রাজি নন। তাঁকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার জল্পনা একেবারেই ভিত্তিহীন। আপাতত সাংসদ হিসেবেই দায়িত্ব সামলাতে চান। যেহেতু মহাযুতি জোটের শপথ নিতে দেরি হচ্ছে, তাই নানা গুজব রটছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, মহারাষ্ট্রে দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবির সূত্রে খবর, আগামী বুধবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তাঁরা।
Advertisement
এদিন মহাযুতির তিন শরিক—বিজেপি, সিন্ধেপন্থী শিবসেনা ও অজিতপন্থী এনসিপির নেতাদের মুম্বইয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীরও। কিন্তু তিনি সাতারার গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরেননি। মুখ্যমন্ত্রী পদ না পাওয়া নিয়ে সিন্ধে যে এখনও ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রবিবারই। সমর্থনের কথা জানালেও বিজেপির মাথাব্যথা বাড়িয়ে বলেছেন, ‘আমি জনগণের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমার নেতৃত্বেই জোট লড়াই করে ফের ক্ষমতায় এসেছে। তাই মানুষ আমাকেই ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চাইছে।’ তাঁর অনুপস্থিতিতে এদিনের বৈঠকে বাতিল হতেই শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সঙ্গে ছিলেন এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তাঁরা।
এসবের মধ্যেই মারাঠাভূমে নতুন একটি সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, উপ মুখ্যমন্ত্রী না হলে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়ে যেতে পারেন সিন্ধে। কারণ, ‘মহাবিকাশ আঘাড়ি’ জোটের কোনও দলই বিরোধী দলনেতার পদের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। তাই সিন্ধেপন্থী শিবসেনাকে ওই পদ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু তাতে সিন্ধে নিজে কতটা রাজি হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। 
সম্পর্কিত সংবাদ