সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাই-ভোল্টেজ রোড শো শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেতে উঠল দুর্গাপুর। তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। জখম হন দু’পক্ষের দু’জন। ভাঙচুর করা হয় তৃণমূলের পার্টি অফিস। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির প্রতিবাদ করাতেই গোলমাল বলে তৃণমূলের দাবি। পাল্টা গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, অমিত শাহের রোড শো শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে তাদের এক কর্মীর উপর হামলা চালায় তৃণমূলের লোকেরা। তাতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। বাঁকুড়া মোড় এলাকায় একটি মন্দিরের মাইক বন্ধ করা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা বাধে। মুহূর্তের মধ্যেই তা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। লাঠি, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জখম দু’দলের দু’জনকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের দেখতে যান দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত ও বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘড়ুই। আক্রান্ত বিজেপি নেতা রবি দাসের অভিযোগ, রোড শো থেকে ফেরার পর তাঁকে লক্ষ্য করে তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মী গুড্ডু রজকের দাবি, এলাকায় ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছিল বিজেপি। বাধা দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়।
সেই অশান্তির আঁচ রাতে গিয়ে পড়ে মহানন্দা কলোনিতেও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনা পনেরোর বাইক বাহিনী তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা সকলের বিজেপির লোক বলে অভিযোগ। রেহাই পায়নি তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের বাড়িও। যেমন, গোপাল রায়ের স্ত্রী রুপা রায় বলেন, ‘তখন অনেক রাত। হইচই শুনে বাইরে আসতেই দেখি বেশ কিছু বিজেপি কর্মী পার্টি অফিস ভাঙছে। ওরা আমার স্বামীর নামে হুমকি দিচ্ছিল। বলছিল, তৃণমূল করা ভুলিয়ে দেবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা জয়া আঁকুড়ের অভিযোগ, ‘বিজেপির বাইক বাহিনী পার্টি অফিসের পাশাপাশি পাশের বাড়িতেও হামলা করেছে। বড্ড আতঙ্কে রয়েছি।’ মহিলাদের আরও অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এই বাইক বাহিনী ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁদের ধাওয়া করে। থানার বাইরে দাঁড়িয়ে অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি দিতে থাকে।’ দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই সরাসরি তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আমাদের কর্মীদের ঘরে ঢুকে মারা হয়েছে। যারা রক্তের খেলা শুরু করেছে, চার তারিখের পর চারগুণ ফল ভুগতে হবে।’ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের গায়ে হাত দিলে আমরাও চুপ করে বসে থাকব না।’ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত বলেন, ‘বিজেপি অযথা অশান্তি পাকাচ্ছে। অশান্তির আগুন জ্বালানো সহজ। কিন্তু নেভানো কঠিন। উস্কানিমূলক মন্তব্য করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে ওরা।’ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত।-নিজস্ব চিত্র