নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপ নির্বাচন শেষ হতেই শুরু গোষ্ঠী কোন্দল। তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বন্ধ হয়েছে ই-টেন্ডার চালুর প্রক্রিয়া। কারণ তৃণমূলের এক গোষ্ঠী চাইছে ই-টেন্ডার নয়। বরং নর্মাল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই হোক টেন্ডার। এরফলে স্টেট ফান্ডের (পঞ্চম অর্থ কমিশন) টাকা খরচ করতে পারছে না পঞ্চায়েত। ছবিটা শালবনী ব্লকের বাঁকিবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। কারণ, উন্নয়নের কাজ বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, স্টেট ফান্ডের ৫০ শতাংশ টাকা খরচ হয়নি। তৃণমূলের এক গোষ্ঠী চাইছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার করা হোক। যাতে সেই গোষ্ঠীর নেতারা টেন্ডারের বরাত পান।
Advertisement
এদিন জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই ই-টেন্ডার করতে হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের সমস্যার সমাধান করা। টেন্ডার নিয়ে গণ্ডগোল করা নয়। শালবনী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বাঁকিবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া চালুর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম মেনেই চলতে হবে। আশা করছি, খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। দ্রুত মানুষের জন্য নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করবে গ্রাম পঞ্চায়েত।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বাঁকিবাধ গ্রাম পঞ্চায়েত গিয়েছিল তৃণমূলের দখলে। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই এলাকায় বিজেপি এগিয়ে যায়। আবার ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে গেলেও গত লোকসভা ভোটে তারা পিছিয়ে পড়ে। তবে উপ নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু উপ নির্বাচনে বড় মার্জিনে জয়ের মাঝেও এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭টি বুথে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এরমধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।
এক তৃণমূল নেতার কথায়, স্টেট ফান্ড থেকে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা এসেছিল। তার মধ্যে ১৮ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া তৃণমূল কর্মীরা এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। বাঁকিবাঁধ এলাকায় চারজন ঠিকাদার সমস্ত টেন্ডার পাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ রয়েছে ঠিকাদারদের একাংশ। গ্রামের মানুষ গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে কাজ থমকে থাকায় ক্ষুব্ধ। টেন্ডার নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে শালবনী থানার পুলিসকেও আসতে হয়েছে।
এনিয়ে মেদিনীপুর বিধানসভা উপ নির্বাচনে পরাজিত সিপিআই প্রার্থী মণিকুন্তল খামরুই বলেন, গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনায় কাজ থমকে যাওয়ার ঘটনা জেলার বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে দেখা যায়। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আসলে তৃণমূল নেতারা টাকার জন্য একাজ করে থাকে।
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, টাকার ভাগাভাগি নিয়েই যত সমস্যার সূত্রপাত। এতে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় পড়তে হয়। সারা রাজ্যে একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মানুষ একদিন এর জবাব দেবেই।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বাঁকিবাধ গ্রাম পঞ্চায়েত গিয়েছিল তৃণমূলের দখলে। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই এলাকায় বিজেপি এগিয়ে যায়। আবার ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে গেলেও গত লোকসভা ভোটে তারা পিছিয়ে পড়ে। তবে উপ নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু উপ নির্বাচনে বড় মার্জিনে জয়ের মাঝেও এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭টি বুথে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এরমধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।
এক তৃণমূল নেতার কথায়, স্টেট ফান্ড থেকে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা এসেছিল। তার মধ্যে ১৮ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া তৃণমূল কর্মীরা এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। বাঁকিবাঁধ এলাকায় চারজন ঠিকাদার সমস্ত টেন্ডার পাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ রয়েছে ঠিকাদারদের একাংশ। গ্রামের মানুষ গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে কাজ থমকে থাকায় ক্ষুব্ধ। টেন্ডার নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে শালবনী থানার পুলিসকেও আসতে হয়েছে।
এনিয়ে মেদিনীপুর বিধানসভা উপ নির্বাচনে পরাজিত সিপিআই প্রার্থী মণিকুন্তল খামরুই বলেন, গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনায় কাজ থমকে যাওয়ার ঘটনা জেলার বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে দেখা যায়। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আসলে তৃণমূল নেতারা টাকার জন্য একাজ করে থাকে।
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, টাকার ভাগাভাগি নিয়েই যত সমস্যার সূত্রপাত। এতে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় পড়তে হয়। সারা রাজ্যে একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মানুষ একদিন এর জবাব দেবেই।



