সংবাদদাতা, কাটোয়া: গুসকরা শহরে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থার অফিসের এক কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অঙ্কুশ শীল (২৩)। তাঁর বাড়ি নদীয়া জেলার মুরুটিয়া থানার কেচুয়াডাঙা গ্রামে। সংস্থার কর্মীদের দাবি, শুক্রবার রাতে অফিসের ঘরে ওই যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও মৃতের পরিবারের দাবি, অঙ্কুশ আত্মহত্যা করতে পারে না। টাকা নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে ওই অফিসের সহকর্মীরাই তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এনিয়ে শনিবার সকালে ওই অফিসের ম্যানেজার সহ তিন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে মৃতের পরিবারের লোকজনদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর গুসকরা ফাঁড়ির পুলিস গিয়ে ওই কর্মীদের উদ্ধার করে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিস।
মৃতের মা কাননবালা শীল বলেন, আমাদের ফোন করে বলা হয়, ছেলে গলায় দড়ি দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আছে। এসে দেখি মারা গিয়েছে। কিন্তু, ছেলে আত্মহত্যা কেন করতে যাবে? টাকা নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে ওরা আমার ছেলেকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসরকারি অফিসটি গুসকরা শহরের সংহতিপল্লি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলত। অঙ্কুশ দু’বছর আগে ওই সংস্থায় কাজে যোগ দেন। অফিসের দোতলায় অঙ্কুশবাবু সহ তিনজন কর্মী থাকতেন। তাঁর সহকর্মীরা এদিন বলেন, অঙ্কুশকে গতকাল রাতে আমরা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু, ও যেতে চায়নি। ও ঘরে একাই ছিল। তারপর আমরা রাত ৯টা নাগাদ ফিরে এসে দেখি ঘর ভিতর থেকে বন্ধ। আলো বন্ধ রয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় ঘরের জানালা থেকে টর্চের আলো দিয়ে দেখি, অঙ্কুশ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। এরপর আমরা তড়িঘড়ি দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাই।
ওই রাতেই পরিবারের লোকজনদের খবর দেওয়া হয়। মৃতের মা সহ পরিবারের অন্যান্যরা এদিন সকালে গুসকরা শহরে আসেন। অভিযোগ, তাঁরা অফিসে গিয়ে শাখা ম্যানেজার সহ বাকি তিন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেন। পুলিস গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিলেন অঙ্কুশ। বাবা ও ছেলের সামান্য আয়েই তাঁদের সংসার চলত। এদিন একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। ঘটনার পর সংস্থার এক কর্মী বলেন, অফিস থেকে প্রচুর কাজের চাপ দেওয়া হয়। প্রতিদিন ঋণের টাকা আদায়ের জন্য টার্গেট দেওয়া হয়। তা পূরণ না করতে পারলেই অপমান করা হয়। সংস্থার কর্মীদের একাংশের অনুমান, অঙ্কুশের সঙ্গে টাকা পয়সা জনিত কোনও গোলমালের জেরেই এমন কাণ্ড ঘটেছে। • গুসকরা শহরে ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থার কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা। -নিজস্ব চিত্র