Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চারতলার ছাদে পড়ে জুতো, সল্টলেকে ক্লাস সেভেনের ছাত্রীর মরণঝাঁপ? রহস্য

বাড়িতে মা ছিলেন না। মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বাইরে বেরিয়েছিলেন বাবা। ওই অল্প সময়ের মধ্যেই সল্টলেকের বিচিত্রা আবাসনে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল এক ছাত্রীর।

চারতলার ছাদে পড়ে জুতো, সল্টলেকে ক্লাস সেভেনের ছাত্রীর মরণঝাঁপ? রহস্য
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়িতে মা ছিলেন না। মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বাইরে বেরিয়েছিলেন বাবা। ওই অল্প সময়ের মধ্যেই সল্টলেকের বিচিত্রা আবাসনে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল এক ছাত্রীর। উপর থেকে কিছু একটা পড়ার মতো জোরে শব্দ পেয়ে প্রতিবেশিরা বেরিয়ে এসে দেখেন, আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই ছাত্রী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। মৃতার নাম অদ্রিজা সেন (১৩)। সে কলকাতার একটি নামী স্কুলে সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রী আবাসনের ছাদ থেকে মারণঝাঁপ দিয়েছে? নাকি অন্যকিছু? পরিবারের দাবি, আত্মহত্যার ঘটনা হতেই পারে না। তদন্তের দাবিতে বিধাননগর উত্তর থানায় একটি অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

Advertisement

সল্টলেকের বিসি ব্লকে রয়েছে বিচিত্রা আবাসন। অদ্রিজার বাবা সুব্রতবাবু অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। মা চন্দনাদেবী সল্টলেকের একটি স্কুলে বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। অদ্রিজা বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। অত্যন্ত আদরের। ঘটনাটি ঘটেছে, রবিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ। সুব্রতবাবু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওইদিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি ফ্ল্যাটে মেয়েকে খেতে দেন। ১ জুলাই থেকে স্কুলের ইউনিট টেস্ট ছিল। তার জন্য কিছু স্টেশনারি জিনিসপত্র, স্কুলের টিফিনের সরঞ্জাম কিনতে গিয়েছিলেন। সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি বাইরে বের হন। বেশি সময়ের জন্য বের হলে, বাইরে থেকে লক করে যান। কিন্তু, ওইদিন লক না করেই তিনি স্থানীয় বাজারে যান। ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ফিরে এসে দেখেন, প্রতিবেশিদের ভিড়! অদ্রিজা রক্তাক্ত অবস্থায় আবাসনের নীচে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে!
সল্টলেকের একটি হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হলেও, সোমবার ভোররাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পুলিস জানিয়েছে, ছাদে ছাত্রীর জুতো মিলেছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে সে ছাদে গিয়েছিল। তার পুরনো কিছু লেখা পাওয়া গিয়েছে। যেখানে অবসাদের কথা, মৃত্যুর কথা লেখা আছে! তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার ছাত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তার রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা হবে। স্কুলের অধ্যক্ষা ছাত্রীর বাবাকে ফোনও করে খবরও নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সুব্রতবাবু সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘অবসাদের কোনও সুযোগই ছিল না। অদ্রিজা আমাদের একমাত্র সন্তান। মা স্থানীয় স্কুলের শিক্ষিকা। তাই যতটা সম্ভব তাকে সময়ও দিত। আমিও অবসরপ্রাপ্ত। ও সাঁতার, ক্যারাটে শিখত। ছাদে গিয়ে ঝাঁপ দেওয়া, এটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, পড়াশোনার কোনও চাপ ছিল না। স্কুলটিও অত্যন্ত ভালো। কোনও চাপ দেয় না। তাই এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। জোর করে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকতে পারে। আমার ধারণা, আমি বেরিয়ে যাওয়ার পর কেউ ফলো করেছে। আমাদের আবাসন সুরক্ষিত নয়।’ কন্যাহারা পিতার আক্ষেপ—‘ফ্ল্যাটের দরজা লক করে গেলে হয়ত ঘটনাটা ঘটতই না’!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ