নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনস্থ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এবার পাবেন ৫ লক্ষ টাকার জীবন বিমা ও ৩৫ লক্ষ টাকা দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা। সন্তানদের পড়াশোনার জন্য মিলবে ৮ লক্ষ টাকা। ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে স্যালারি অ্যাকাউন্ট থাকা কর্মীদের এই সুবিধা দেওয়া ব্যবস্থা করল স্বাস্থ্যভবন। প্রসঙ্গত, এনএইচএম শাখার হাজার হাজার কর্মীর কোনো ধরনের বিমার সুযোগ ছিল না। কর্মরত অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে কোনো আর্থিক সুযোগ-সুবিধা মিলত না। নামেই সরকারি দপ্তরে কাজ। চুক্তিভিত্তিক কাজের অনিশ্চয়তা তাড়া করে বেড়াত সবসময়ই। প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কর্মরতরা নিজেরা কয়েকজন মিলে গ্রুপ ইনসিওরেন্স পলিসি করে রাখতেন। জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের আওতাভুক্ত কর্মীর সংখ্যা ২৬ হাজার। নেওয়া হচ্ছে আরও ১০ হাজার। এই ৩৬ হাজার কর্মী-আধিকারিককে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ কোষাগার থেকে আরও কোটি কোটি টাকা অর্থ ব্যয়। এই পরিস্থিতিতে দু’কূল বজায় রাখতে মধ্যপন্থা নিল রাজ্য।
জীবন বিমা, দুর্ঘটনা বিমা, দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন সহ সামাজিক সুরক্ষার বেশ কিছু মানদণ্ডে সর্বাধিক খরচ ও সুযোগ-সুবিধা বহনে সম্মত ব্যাংককে কর্মীদের স্যালারি অ্যাকাউন্টের দায়িত্ব দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। ১০টি ব্যাংকের মধ্যে টেন্ডার করে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাতে লাভ কী হবে? দপ্তর সূত্রের খবর, এনএইচএম কর্মীরা নির্বাচিত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করলেই মিলবে গুচ্ছ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা। যেমন, স্বাভাবিক মৃত্যুতে কর্মীর পরিবার পাবে ৫ লক্ষ টাকা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হবে ৩৫ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, মৃতের এক বা একাধিক পুত্র সন্তান থাকলে ৪ লক্ষ টাকা, ১ পুত্র ও ১ কন্যাসন্তান থাকলে ৮ লক্ষ টাকা এবং দুই কন্যাসন্তানের ক্ষেত্রে ৮ লক্ষ টাকা পড়াশোনার খরচ বাবদ দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় স্থায়ী অঙ্গহানি হলেও এককালীন ৩৫ লক্ষ টাকা ও আগের মতোই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ মিলবে। আংশিক অঙ্গহানি হলে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের ৭৫ শতাংশ বিমার অর্থ মিলবে। কিন্তু, কর্মীদের বিপদের সময় ব্যাংক যদি বিমার টাকা দিতে গড়িমসি করে? প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে? রাজ্য কি ব্যাংকের সঙ্গে কর্মীদের স্যালারি অ্যাকাউন্টের চুক্তি করেই দায়ভার ঝেড়ে ফেলল? বিমার অর্থ পেতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য কোনো নোডাল অফিসার কি রাখা যেত না? দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘চুক্তিপত্রে স্পষ্ট লেখা আছে, কর্মীর পরিবারের বিমা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কাজকর্ম আমরা রিভিউ করব। প্রতিশ্রুতি পালন না করলে চুক্তিই বাতিল করে দেব।’