Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলায় চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, গড়া হল কমিটি, ধ্বনি ভোটে পাস গুণ্ডাদমন বিল

রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনছে সরকার। গুণ্ডাদমন বিলও বিধানসভায় পাশ হয়েছে। বিস্তারিত জানুন।

বাংলায় চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, গড়া হল কমিটি, ধ্বনি ভোটে পাস গুণ্ডাদমন বিল
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ১৮:৫২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি। আজ, সোমবার বিধানসভায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, আমরা এই বিল আনবই। সংকল্পপত্রেও এই প্রতিশ্রুতি আগেই দেওয়া হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সবসময় বলেছেন, এক দেশ, এক বিধান। ফলে আমরা এই রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনবই। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় এই বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য আনা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ড, অসম,গুজরাতের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উপর ভিত্তি করেই এই রাজ্যে বিল আনা হবে। এই প্রসঙ্গে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। যার চেয়ারপার্সন হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। কমিটিতে সদস্য হিসেবে ৫ জন পেশার মানুষ থাকবেন। তাঁরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, আইনি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং অতিরিক্ত সচিব। এই কমিটি মূলত- বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পত্তির বণ্টন, উত্তরাধিকার-সহ মোট ৯টি বিষয় দেখবে। কমিটিকে আপাতত চার সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় খসড়া বিলটি আসবে অনুমোদনের জন্য। এরপর আগামী আগস্ট মাসে এই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করার পর ইউসিসি বিল আনা হবে। যদি এই বিষয়ে কারও কিছু বলার থাকবে তাহলে তারা কমিটির কাছে বলতে পারেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাজ্যে একটাই আইন চলবে। ধর্মের ভিত্তিতে দুটো বিল চলবে না। সব সম্প্রদায়ের জন্য এক আইন লাগু হবে। তবে আদিবাসী এবং জনজাতিরা এই প্রস্তাবিত বিলের বাইরে থাকবেন। 

Advertisement

অন্যদিকে, এদিন রাজ্যে আইনের শাসন কার্যকর করতে এবং তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ রুখতে বিধানসভায় পেশ করা পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল। যা প্রশাসনিক মহলে গুণ্ডাদমন বিল নামে পরিচিত। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এদিন বিধানসভায় বিলটি পেশ করেন। নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্যই হল সমাজবিরোধী এবং দুষ্কৃতীদের দমন করা। এর পাশাপাশি অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে অনৈতিক ভাবে উপার্জন করা সম্পত্তিও পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে তা নিলাম করা হতে পারে। এছাড়া কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা করতে পারে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে প্রকৃত অর্থের তিনগুণ আদায় করা হবে। এই বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকেও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আজ বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয় সরকারের প্রস্তাবিত এই বিলটি। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৭৬। বিপক্ষে পড়েছে ৪১ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকেন ২০ বিধায়ক। বিধানসভায় এই বিলের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ