Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

দূরপাল্লার ট্রেনে দেদার অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি, নজরদারি কোথায়!

দূরপাল্লার ট্রেনে কেন বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার? কেন সারপ্রাইজ ভিজিট করে এই সংক্রান্ত নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে না রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে?

দূরপাল্লার ট্রেনে দেদার  অস্বাস্থ্যকর  খাবার বিক্রি, নজরদারি কোথায়!
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দূরপাল্লার ট্রেনে কেন বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার? কেন সারপ্রাইজ ভিজিট করে এই সংক্রান্ত নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে না রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে? এই প্রশ্ন তুলে সংসদে রিপোর্ট পেশ করেছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। তাতে আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন) বিভিন্ন বেস কিচেনের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় চরম বেকায়দায় পড়েছে রেল।

Advertisement

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বহু দূরপাল্লার ট্রেনে প্যান্ট্রি কার নেই। এর ফলে লাইসেন্স না থাকা হকাররা সেগুলিতে দেদার অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির প্রশ্নই নয়, তা একইসঙ্গে সাধারণ রেল যাত্রীদের পক্ষে বিপজ্জনকও বটে। এই প্রসঙ্গেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রেল বোর্ডকে সুপারিশ করেছে যে, লাইসেন্সহীন একজন হকারও যাতে অবৈধভাবে ট্রেনে খাবার বিক্রি করতে না পারে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিতভাবে সারপ্রাইজ চেকিং করতে হবে। বৃদ্ধি করতে হবে নজরদারি। সারপ্রাইজ ভিজিটে ঠিক কী ছবি উঠে আসছে, তা অনলাইন পোর্টালে আপলোড করে দিতে হবে। এর ফলে মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এই ব্যাপারে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি যেমন টাস্ক ফোর্স গঠন করে কাজের সুপারিশ করেছে, তেমনই স্বচ্ছতা আনতে সারপ্রাইজ ভিজিটের সময় প্রয়োজনে ভিডিওগ্রাফির সুপারিশও করা হয়েছে। আর ট্রেনের খাবারে এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রসঙ্গেই রেলমন্ত্রকের আওতাধীন আইআরসিটিসির বেস কিচেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির পক্ষ থেকে। এই ইস্যুতে রিপোর্টে রীতিমতো হতাশা ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি। তারা জানিয়েছে যে, যাবতীয় বেস কিচেনের গুণগত মান, স্বাস্থ্যকর আবহ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট করে আইআরসিটিসি এবং রেল কী করেছে, তার যথাযথ জবাব দিতেই ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রক। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই ব্যাপারে কোনও উপযুক্ত পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করতেও পারেনি। নতুন করে বেস কিচেন গঠন নিয়ে রেলমন্ত্রকের পদক্ষেপেও অসন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি। এমনই উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। এক্ষেত্রেও কড়া নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে আইআরসিটিসি যে বিজনেস প্ল্যান পেশ করেছিল, তা ২০১৭ সালের কেটারিং পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সেই কারণে আইআরসিটিসিকে একটি সংশোধিত বিজনেস প্ল্যান দাখিল করতে বলা হয়েছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ