নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে জল জমার সমস্যা। এই সমস্যা মেটাতে এবার নিকাশি ব্যবস্থার মানোন্নয়নের বড় মাপের কাজে হাত দিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। মূলত ট্যাংরার পামার বাজার পাম্পিং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চল, সায়েন্স সিটি, তপসিয়া, ট্যাংরা, গড়িয়া, বেহালা সহ শহরের ১২টি পুরোনো ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালার মনোন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, গঙ্গার পাশে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক নতুন লকগেট এবং কিছু কিছু জায়গায় পুরনো লকগেট আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে ১৫৬ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ হয়েছে পুরসভার জন্য। সেই টাকাতেই কাজগুলি সম্পন্ন হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন জায়গায় এমন অনেক অঞ্চল রয়েছে, যেখানে ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা থাকলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। কারণ, যখন এই নিকাশি পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনসংখ্যা যা ছিল, বর্তমানে তা আড়েবহরে বেড়েছে অনেকটাই। সেই সঙ্গে পুরোনো নিকাশিনালার জল ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাই ঠিক হয়েছে, নিউ বালিগঞ্জ অঞ্চল, পামার বাজার সংলগ্ন পটারি রোড, তিলজলা, কুষ্টিয়া, গড়িয়া কবরডাঙা, পাহাড়পুর রোড, গল্ফ গার্ডেন, লেক গার্ডেন্স, চকগড়িয়া, ঠাকুরতলা রোড, মহাত্মা গান্ধী রোড সহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পাতা হবে এবং সেগুলিকে সংশ্লিষ্ট পাম্পিং স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এমন মোট ১২টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে, গঙ্গা তীরবর্তী রতনবাবুর ঘাট, বাগবাজার ঘাট, নিমতলা ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, জ্যাকসন ঘাট, মিলেনিয়াম পার্ক, মুন্সিগঞ্জ, বোট ক্যানেল, চাঁদপাল ঘাট সহ মোট ১৩টি জায়গায় গঙ্গার লকগেটের আধুনিকীকরণ হবে। এসব জায়গার পুরোনো লকগেটগুলি কোথাও নতুন করে তৈরি করা হবে। কোথাও পুরোনো কিছু যন্ত্রাংশ বদল করে নতুন লাগানো হবে। পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ মিলেছিল, ঠিক সেভাবেই রাজ্য সরকারের তরফেও শহরের নিকাশি ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য ১৫৬ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। তাই শহরের বিভিন্ন জায়গায, যেখানে জমা জলের সমস্যা রয়েছে এবং পুরোনো নিকাশি পাইপলাইনগুলি বদলের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে কাজ হবে। সেই মতো ‘প্রজেক্ট’ তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’