নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেইআইআইপি প্রকল্পে শহরের সংযুক্ত অঞ্চলের (১০১-১৪৪ নম্বর ওয়ার্ড) একাংশে ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা এবং পানীয় জলের পাইপলাইন পাতার কাজ চলছে। সেই কাজ এখন শেষের পথে। এসব এলাকায় রাস্তাঘাটের মেরামতিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। এবার সংযুক্ত কলকাতারই বাইপাস সংলগ্ন কয়েকটি অঞ্চল, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকায় ভূগর্ভস্থ নিকাশি পরিকাঠামো এবং পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ করবে পুরসভা। সোমবার এই কথা জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেএমসি শার্প’ (কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সাসটেইনিবিলিটি হাইজিন অ্যান্ড রেজিল্যান্স প্রজেক্ট)। প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা। এই টাকার সিংহভাগ অংশই ঋণ দিচ্ছে এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক)। পুজোর পরেই ধাপে ধাপে শহরের ছ’টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশে কাজ শুরু হবে বলে জানাচ্ছে পুর-কর্তৃপক্ষ।
এদিন এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন সচিব মহম্মদ গুলাম আলি আনসারি, পুর কমিশনার ধবল জৈন সহ কেএমডিএ ও পুরসভার বিভাগীয় কর্তারা। সেখানে মেয়র কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজগুলির ‘রিভিউ’ করেন। ফিরহাদ জানান, কেইআইআইপি প্রকল্পে বাখরাহাট এলাকা ছাড়া প্রায় সব রাস্তার কাজ হয়ে গিয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি শুরু হয়ে যাবে কেএমসি শার্পের প্রথম পর্যায়ের কাজও। অনেক জায়গায় নিচু জমি বা চাষের জমি ছিল। সেখানে এখন প্লট করে নতুন নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে। জল জমছে। মাটির নীচ দিয়ে নিকাশি তৈরি করতে না পারলে সেখানে রাস্তাও নতুন করে করা যাচ্ছে না। এই প্রকল্পের আওতায় সব কাজই করা হবে ধাপে ধাপে। পরে গার্ডেনরিচ সহ আরও কয়েকটি এলাকায় নয়া নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন ফিরহাদ।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্রকল্পের আওতায় ই এম বাইপাসের ধারে নয়াবাদ ও অজয়নগরে বিভিন্ন রাস্তার নীচে ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা এবং গলিপথে নিকাশি সংযোগের কাজ হবে। হোসেনপুরে তৈরি হবে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি)। আনন্দপুরে ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং হোসেনপুরে একটি পাম্পিং স্টেশন হবে। জোকার জুলপিয়া ও কবরডাঙা অঞ্চলে নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তোলার তৈরি হবে দু’টি পাম্পিং স্টেশন। বেহালার সোনামুখী মেইন রোড, কোষ্ঠডাঙা রোড সংলগ্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ নিকাশি, বেহালার যাদব ঘোষ রোডের সংলগ্ন এলাকায় নয়া নিকাশি পাইপলাইন এবং কেয়াতলায় একটি নতুন পাম্পিং স্টেশন তৈরি হবে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে ডঃ বিশ্বনাথ নয়া প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তারপর একাধিক কাজে গতি এসেছে। মেয়রের নির্দেশে তিনি পুরনো বাকি থাকা কাজগুলি দ্রুত শেষ করতে সচেষ্ট হয়েছেন। ফলে নতুন প্রকল্পের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের প্রায় ২৫০০ কোটির মধ্যে ১৭৫০ কোটি টাকার বেশি দিচ্ছে এডিবি। প্রায় ৪৩৮ কোটি দেবে রাজ্য এবং প্রায় ৩০৬ কোটির ব্যয়ভার বহন করবে কলকাতা পুরসভা।