সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এসআইআরে নাম বিচারাধীন, এবার ভোট দিতে পারব? সচিত্র ভোটারকার্ড পাওয়ার জন্য কোথায় তদবির করতে হবে? ১৩ দিনে দার্জিলিং জেলায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন ফোন-কল পেয়ে নাজেহাল ভোটের কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা। তাঁরা বিষয়গুলি নিয়ে সঠিক দিশা দেখাতে পারছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে উদ্বিগ্ন বিচারাধীন ভোটাররা।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর অবশ্য বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পাহাড় ও সমতলে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তাতে কিছু ফোন-কল এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোট ঘোষণা হওয়ার পর ১৬ মার্চ দার্জিলিং জেলার পাহাড় ও সমতলে চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পাহাড়ের জেলাশাসকের অফিসে এবং সমতলে শিলিগুড়ির পিডব্লুডি ইন্সপেশন বাংলোয় কন্ট্রোল রুম রয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলিতে একডজনেরও বেশি ফোন এসেছে। অধিকাংশ কলই এসআইআর সংক্রান্ত।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ভোটের কন্ট্রোল রুমের নম্বর ১৯৫০। এর আগে স্থানীয় এলাকার এসটিডি কোড নম্বর জুড়তে হবে। এখন পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমে ফোন এসেছে ১২টি। অধিকাংশ এসআইআর সংক্রান্ত। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, এসআইআরের জেরে ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন। এবার ভোট দিতে পারব? আবার কেউ কেউ জানতে চাইছেন, এসআইআরের জেরে নাম কাটা গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এখন কী করব? শিলিগুড়ি থেকেই এমন একাধিক কল এসেছে কন্ট্রোল রুমে।
এরবাইরে নতুন ভোটারদের ফোন কল এসেছে কয়েকটি। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। এখন ভোটের কার্ড পাব কোথায়? প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এসআইআর নিয়ে যাঁরা ফোন করছিলেন, তাঁদের গলায় ছিল উদ্বেগের সুর। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ বিচারাধীন ভোটারের বিষয়টি বিচারকরা দেখছেন। আর ট্রাইবুনালে কি হবে, সেটা বল সম্ভব নয়।
এরবাইরে সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিলের সংখ্যা ১৩টি। এরমধ্যে ১০টি অভিযোগ হয়েছে শিলিগুড়ি থেকে। অধিকাংশ সরকারি জায়গা দখল করে ভোটপ্রচার চালানোর অভিযোগ। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ছবি সহ অ্যাপে অভিযোগ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড় ও সমতলে সরকারি জায়গা থেকে খোলা হয়েছে নির্বাচনি ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার, ঝান্ডা।
পাহাড় ও সমতলের কন্ট্রোল রুমে কম্পিউটার, মনিটর, ফোন, মোবাইল ফোন, সিসি ক্যামেরা প্রভৃতি রয়েছে। এসএসটি, এফএসটি এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টিম রয়েছে সেখানে। ২৪ ঘণ্টার জন্য খোলা কন্ট্রোল রুম। প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, ভোটারদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপপাশি কন্ট্রোল রুমগুলি থেকে বিভিন্ন এলাকার উপর নজর রাখা হচ্ছে। তাই ভোটের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন গাড়ির মাথায় লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।