Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চাপে পড়ে জয়ন্ত সিংয়ের বেআইনি বাড়ি ভাঙতে তৎপরতা কামারহাটিতে

আড়িয়াদহের ‘ত্রাস’ জয়ন্ত সিংয়ের বেআইনি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

চাপে পড়ে জয়ন্ত সিংয়ের বেআইনি বাড়ি ভাঙতে তৎপরতা কামারহাটিতে
  • ২৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহের ‘ত্রাস’ জয়ন্ত সিংয়ের বেআইনি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তার পরদিনই কামারহাটি পুরসভা এই কাজ রূপায়ণে অতিরিক্ত সময় চাইলে ভর্ৎসনার মুখে পড়ে আদালতের। প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি প্রভাবশালীদের চাপেই পুরসভা জয়ন্তর বাড়ি ভাঙার বিষয়ে গড়িমসি করছে? একদিকে আদালতের কোপ, অন্যদিকে শহরবাসীর সমালোচনার জোড়া ফলায় বিদ্ধ কামারহাটি পুরসভা শেষমেশ এ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে উঠল। বাড়ি ভাঙার কাজে দক্ষ একটি এজেন্সি শুক্রবার ওই বাড়িটি পরিদর্শন করে। তারা পুরসভার সঙ্গে প্রাথমিক কথাও বলেছে। শনিবার দরপত্র জমা দেবে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনে বাড়ি ভাঙার এজেন্সি ঠিক করা হবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খবরের শিরোনামে উঠে আসে জয়ন্ত সিং। আড়িয়াদহের এক যুবক ও তাঁর মাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করায় পুলিস জয়ন্ত ও তার দলবলকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনার পর জয়ন্তের আস্তানা হিসেবে পরিচিত তালতলা ক্লাবের মধ্যে একের পর এক অত্যাচারের ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। চোর সন্দেহে এক নাবালককে ক্লাবে ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচার, স্থানীয় বাজারে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ— এমন বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়। শুধু তাই নয়, আড়িয়াদহের ১ নম্বর প্রতাপ রুদ্র লেনে প্রায় ১ কাঠা ৮ ছটাক জমির উপর গড়ে ওঠা তার অট্টালিকা বেআইনি বলে জানা যায়। প্রশ্ন উঠেছিল, বেআইনি বাড়ি তৈরির সময় পুরসভা কেন পদক্ষেপ করেনি? এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই বেআইনি বাড়িটি আট সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। পরের দিনই পুরসভা আদালতে আবেদন করে বলে, বাড়ি ভাঙার জন্য আরও বেশি সময় লাগবে। পুরসভার ওই আবেদন দেখে বিচারপতি তীব্র ভর্ৎসনা করেন। দ্রুত বাড়ি ভাঙার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগে ওই বেআইনি নির্মাণের দু’টি তলা ভাঙুন। কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় লাগলে, তখন আবেদন করবেন।
আদালতের কড়া মনোভাব বুঝেই তড়িঘড়ি বাড়ি ভাঙার কাজে দক্ষ একটি এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে পুরসভা। শুক্রবার তাদের প্রতিনিধিরা  ওই বেআইনি বাড়িটি পরিদর্শন করেন। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয় একটি এজেন্সি কাছে বাড়িটি ভাঙতে কত খরচ হতে পারে, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের মাধ্যমে বাছাই হওয়া এজেন্সিকে বাড়ি ভাঙার দায়িত্ব দেওয়া হবে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ