Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিয়ন্ত্রণহীন তেনুঘাট বাড়াচ্ছে বন্যার আশঙ্কা

নিয়ন্ত্রণহীন তেনুঘাট বাড়াচ্ছে বন্যার আশঙ্কা
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যে বর্ষা ঢুকে পড়েছে উত্তরবঙ্গে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা ঢুকে পড়বে দক্ষিণবঙ্গেও। তার থেকেও বড় কথা, আবহওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রাজ্যে এই মরশুমে দীর্ঘকালীন গড়ের ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হবে। এই পরিস্থিতিতে গতবারের মতো বাংলায় বন্যাপরিস্থিতি এড়াতে মরিয়া রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া একটি বৈঠক করেন। সেখানে সেচদপ্তরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ছিলেন আবহাওয়া দপ্তর, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি (ডিভিআরআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্তারা। ডিভিসির বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার খবর রাজ্যকে আগাম জানানোর দাবি জানানো হয়। ঝড়খণ্ডের তেনুঘাট ড্যামকে ডিভিআরআরসি’র অধীনে ‘ইউনিফায়েড কন্ট্রোলে’ আনার বিষয়টিও রাজ্য তোলে। তার প্রয়োজনীয়তার কথা এদিনের বৈঠকে স্বীকারও করে নিয়েছে ডিভিআরআরসি কর্তৃপক্ষ। তবে মোদি সরকারের উদাসীনতার ফলে তা এখনও সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রাজ্য প্রশাসনের। এজন্য বাংলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েই গেল। প্রসঙ্গত, গতবছর দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় ‘ম্যান মেড বন্যার’ মূল কারণই ছিল রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি’র জল ছাড়া। এই বিষয়ে মানসবাবু বলেন, এর থেকেই পরিষ্কার যে কেন্দ্রের কাছে বাংলা সবসময় বঞ্চনার তালিকায় থাকে। না-হলে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ না নেওয়ার কোনও কারণই নেই। ‘ইউনিফায়েড কন্ট্রোল’ হলে ঝড়খণ্ডের একক সিদ্ধান্তে এই ড্যাম থেকে জল ছাড়া যাবে না, দরকার হবে বাংলারও অনুমতি গ্রহণ। 

Advertisement

ডিভিসি’র চেয়ারম্যান সুরেশ কুমারের মন্তব্যেও বন্যার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। এদিন তিনি জানিয়েছেন, ‘গতবছর ঝাড়খণ্ডে শেষ পর্যায়ে এসে গভীর নিম্নচাপ হয় এবং তাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবছর রাজ্য সরকার ডিভিসিকে একবারে ৫০ হাজার কিউসেকের বেশি জল না ছাড়ার কথা বলেছে। কিন্তু যেভাবে শেষ পর্যায়ে এসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে তাতে ৫০ হাজার কিউসিকের মধ্যে জল ছাড়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে কি না সেটা আলোচনার বিষয়।’ সঠিকভাবে পলি না তোলায় ডিভিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা ৩৪ থেকে ৩৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। এতেই বিপত্তি বাড়ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।  
২০১৬ সাল থেকে বাঁধ মেরামতি থেকে কেন্দ্র একটি টাকা (যেখানে প্রতি বছর খরচ হয় ৫৮৭ কোটি) না দিলেও বন্যার হাত থেকে মানুষকে রেহাই দিতে কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। সম্পূর্ণ রাজ্যের তহবিল থেকে ২,১০৭ কোটি টাকা খরচ করে ৩০৯টি স্কিম হাতে নিয়েছে সেচদপ্তর। ত্রিস্তর কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। সেচদপ্তরের মুখ্য কার্যালয় জলসম্পদ ভবনে থাকছে সেন্ট্রাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। জলপাইগুড়ি, মালদহ, দুর্গাপুর ও মেদিনীপুরে থাকছে চারটি রিজিওনাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। সমস্ত জেলায় ছড়িয়ে থাকবে ৩৩টি ডিভিশনাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। সেগুলি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দিনরাত চালু থাকবে। খবর যাবে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত। বিগত বছরে বেশি ক্ষতি হয়েছে, তেমন ১৯৮টি ব্লকে থাকছে একটি করে কুইক রেসপন্স টিম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ