নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার পার্ক স্ট্রিটে ব্যাপক হইচই। কারণ অক্সফোর্ড বইঘরে চাচা চৌধুরী এসেছেন। চাচা চৌধুরী মানে? ঠিক ধরেছেন, ভিলেন ধরতে সিদ্ধহস্ত। কম্পিউটারের থেকেও দ্রুত চলে যাঁর মস্তিষ্ক। যে বৃদ্ধ মানুষটি কমিকস বইয়ের জগতে দাপিয়ে বিচরণ করেছেন। তিনিই তাঁর সাদা পেল্লাই গোঁফ নিয়ে, পাগড়ি পরে হাজির পার্ক স্ট্রিটে। তাঁর ছবিগল্পের যে বইগুলি বাচ্চাবুড়ো সবার প্রিয়, সেই বইগুলি একত্রে বাংলায় অনুদিত হয়েছে। অন্তরীপ পাবলিকেশন নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা অনুবাদ করে বাজারে এনেছে। তার প্রথম খণ্ডটি এদিন প্রকাশ হল। তা নিয়েই ব্যাপক হইচই। কারণ চাচা হাজির অনুষ্ঠানে।
তাঁকে দেখে বাচ্চারা আহ্লাদে আটখানা। তারপর যখন তাঁদের একটি করে চাচা’র মুখের আদলের মুখোশ উপহার দেওয়া হল তখন হুড়োহুড়ি দেখে কে! সবাই বেশ কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে ছবি তুলল। চাচা রসগোল্লার হাঁড়ি হাতে ছবি তুললেন। পালোয়ান সাবু ছিলেন না। সম্ভবত ভিলেন পেটানোর কাজে ব্যস্ত। অন্তরীপ এবং প্রাণ কমিউনিকেশন যৌথ উদ্যোগে এই কাজ করেছে। বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী। আগেও চাচা চৌধুরীর গল্প বাংলায় পড়ার সুযোগ পেয়েছিল বাঙালি। তবে কয়েক দশক হল সে বই আর দেখা যায় না। এবার ফের নতুন করে বেরল। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, পুরনো বইয়ের অনুবাদ একটু হিন্দি ঘেঁষা। এই অনুবাদ একেবারে সাবলীল বাংলায় লেখা।
চাচা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠাতা প্রাণকুমার শর্মা। এদিন তাঁর পুত্র নিখিল প্রাণ মুম্বই থেকে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। আর ছিলেন উদ্যোক্তারা। এবং অনুবাদক নিজে। আর চাচা চৌধুরীর মতো পেল্লাই গোঁফ, পাগড়ি পরে, চাচা সেজে এসেছিলেন বাপি সাহা। তাঁকে অর্থাৎ চাচাকে দেখতেই পার্ক স্ট্রিটে উত্তেজনা। উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, স্কুলব্যাগে লুকিয়ে আনা ছোট ছোট কমিকসের বইগুলো, পড়ার বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে রাখা হিরেমাণিকগুলো প্রাণ সাহেবের চাচা চৌধুরীর কমিক্সগুলো আবার এনেছে অন্তরীপ কমিকস ও প্রাণ। বাংলার পাঠকের সামনে হাজির হয়েছে এক সময়যান। অতীতের নির্মল যাপনে ফিরে যাওয়ার এক জাদুকাঠি। আজকে যাঁরা সেই সব কমিকসের অভাববোধ করেন তাঁরা হাতে তুলে নিন এই জাদুকাঠি। চড়ে বসুন এই সময়যানে। সঙ্গে নিন আজকে যাঁরা শৈশবে- তাদেরও...।