সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: কাকার বিরুদ্ধে নাবালিকা ভাইঝিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ হতেই পুলিস অভিযুক্ত কাকাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মিটমাট করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে ধূপগুড়ির এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। এমন একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
নাবালিকার পরিবারের দাবি, রবিবার বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিলেন সকল সদস্য। বৃষ্টি নামায় মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা মেয়েকে বলে পরিবারের বড়রা। ছাগল নিয়ে বাড়িতে রাখতে গিয়েছিল মেয়ে। অভিযোগ, সেই সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে ভাইঝিকে ধর্ষণ করে কাকা। মেয়ে জমিতে আসছে না দেখে মা বাড়িতে গিয়ে দেখেন কাকার কুকীর্তি। এরপর নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। কাকাকে আটক করে ধূপগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই কাকাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
এদিকে, ঘটনার পরে থানার বাইরে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য এক বিজেপি নেতা এগিয়ে আসেন। তিনি মিটমাট করে নেওয়ার কথা নির্যাতিতার পরিবারকে বলেন। ভিডিওতে ওই বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নিন।
তবে, বিজেপির তরফে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ধূপগুড়ির বিজেপি নেতা সুশান্ত রায় বলেন, কেউ বলে থাকলে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এই মন্তব্যকে দল সমর্থন করে না। ওই বিজেপি নেতাও বলেন, মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। আমিও এটা সমর্থন করি না। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ধৃতের শাস্তি চাই।
বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত উপ প্রধান আবু তাহের বলেন, পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কেউ টাকা দিয়ে মিটমাট করার প্রস্তাব দিয়েছে ভিডিওতে দেখেছি। এটা জঘন্য ব্যাপার। আশা করি, পুলিস নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তদন্ত করবে।
ধূপগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে সোমবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হবে।