নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সামনেই উৎসবের মরশুম। তার আগেই ধস নেমে বিপর্যস্ত সিকিমের একাংশ। বন্ধ সিকিমের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল। রাস্তার উপর নেমে এসেছে জল, কাদা, পাথর। ইতিমধ্যে সেই কাদায় ফেসে গিয়েছে একটি ট্রাক। ফলে জাতীয় সড়কের ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘুর পথে যানবাহন চলাচল করছে। পুজোর মুখে সিকিমের এমন পরিস্থিতি নিয়ে পর্যটকদের একাংশ উদ্বিগ্ন।
বেশ কয়েকজন চালক জানান, সিংতাম জেলা হাসপাতালের কাছ থেকে স্বানে-দুগা-ওয়েস্ট পেন্ডাম-এর দিকে উপরের দিকে যাওয়া রাস্তাটি বর্তমানে যানবাহনের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এই রাস্তা ওয়েস্ট পেন্ডাম, রেকেপ, আদর্শ গাঁও এবং সামারদুং-সহ একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পাশাপাশি রংপোর দিকে যাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবেও এই রাস্তাগুলি গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে শিলিগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। এর আগে ২০ মাইল ও বারদাং এলাকায় ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে বহু যানবাহন এই বিকল্প রাস্তাগুলি ব্যবহার করেছিল। সেই সময়ই বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে রাস্তাগুলির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে রাস্তার বেশ কিছু অংশের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চালকরা।
চালকদের আরো অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় অসমান ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রয়েছে। এর ফলে গাড়ি, স্কুটার, মোটরবাইক-সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন আটকে যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ির নীচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের পরিস্থিতির পাশাপাশি বিকল্প রাস্তাগুলির অবস্থাও দ্রুত স্বাভাবিক করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় চালকরা।
রবিবার সিকিম পুলিশের ট্রাফিক আপডেট অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এখনও একাধিক রাস্তা বন্ধ রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে হালকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গ্যাংটক জেলার অধিকাংশ রাস্তা খোলা থাকলেও সিংতাম থেকে রংপোর দুটি বিকল্প রুট শুধুমাত্র হালকা যানবাহনের জন্য চালু রয়েছে।
পাকিয়ং জেলাতেও অধিকাংশ রাস্তা সচল রয়েছে। পাকিয়ং থেকে রংপো যাওয়ার রোরাথাং এবং পদমচে-দুগা রুট খোলা রয়েছে। পাকিয়ং থেকে রানীপুল যাওয়ার আহো রুটে রাস্তা চওড়া করার কাজের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভারী যানবাহনকে আসাম লিংজে এবং হালকা যানবাহনকে আহোফাটক-আপার আহো হয়ে আন্ধেরি ফাটক বা চাঙ্গে-শান্তি টার্নিং দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাছং-লোসিং, ফেরি-ছোচেন এবং আরও কয়েকটি রুট বন্ধ রয়েছে।
মাঙ্গন জেলায়ও বেশ কিছু রাস্তা এখনও বন্ধ। মাঙ্গন থেকে গ্যাংটক যাওয়ার রাকদুং-টিনটেক রুটে লাবারগারির কাছে জিম নালায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ফোদং হয়ে মাঙ্গন-গ্যাংটক রুট এবং মাঙ্গন-চুংথাংয়ের একাধিক রুট হালকা যানবাহনের জন্য খোলা হয়েছে। নামচি জেলায় রাভাংলা-ইয়াংগাং এবং ফোংলা-বারমোইক রুটের কিছু অংশ বন্ধ রয়েছে। গ্যালশিং জেলায় সোপাখা-চিওয়াভাঞ্জ্যাং এবং রিম্বি-ইয়কসম রুট বন্ধ রয়েছে। তবে দুই জেলার বাকি রাস্তাগুলি খোলা রয়েছে।