Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বেহিসেবি টাকা কাণ্ড: অভিযোগের তদন্তে ৩ বিচারপতির কমিটি গঠন

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাংলো থেকে হিসেব বহির্ভূত প্রায় ১৫ কোটি টাকা উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল দেশজুড়ে

বেহিসেবি টাকা কাণ্ড: অভিযোগের  তদন্তে ৩ বিচারপতির কমিটি গঠন
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাংলো থেকে হিসেব বহির্ভূত প্রায় ১৫ কোটি টাকা উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল দেশজুড়ে। এই অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে তিন বিচারপতির কমিটি গঠন করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। এই কমিটিতে রয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু, হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জি এস সান্ধাওয়ালিয়া ও কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অনু শিবরামণ। যত দিন পর্যন্ত গোটা বিষয়টির নিষ্পত্তি না হচ্ছে, ততদিন বিচারপতি ভার্মাকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 
টাকা উদ্ধারের ইস্যুতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে জমা দিয়েছেন বলে খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছেন বিচারপতি উপাধ্যায়। গতকাল তিনি তদন্তের সেই রিপোর্ট পেশ করেছেন। 
নজিরবিহীনভাবে শনিবার সেই রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে অভিযুক্ত বিচারপতি ভার্মার বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো রিপোর্ট প্রকাশের জন্য কলেজিয়ামের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধান বিচারপতি খান্না। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভুল তথ্য যাতে না ছড়ায় সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। বিচারপতি ভার্মা অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভিডিওটির বিষয়বস্তু দেখে আমি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তা থেকেই আমি বুঝতে পারি যে, আমাকে ফাঁসানোর ও অপমান করার ষড়যন্ত্র চলছে।’
এদিকে, ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের দায়ের করা একটি এফআইআরে ওই বিচারপতির নাম ছিল বলে জানা গিয়েছে। একটি চিনি কারখানার বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলা করেছিল। সিবিআই এফআইআর করেছিল সিমভাওলি সুগার মিল, তার ডিরেক্টর সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। সংস্থার নন-এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে থাকার কারণে সেই তালিকাতেই নাম ছিল যশোবন্ত ভার্মারও।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের (ওবিসি) অভিযোগের ভিত্তিতে চিনি কারখানার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির ইস্যুতে এফআইআর দায়ের করেছিল সিবিআই। ব্যাঙ্কের তরফে অভিযোগ করা হয়, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তাদের হাপুর শাখার তরফে ৫ হাজার ৭৬২ জন কৃষককে বীজ ও সার কিনতে সাহয্যের জন্য মোট ১৪৮.৫৯ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ঋণের এই টাকা প্রথমে কোনও তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। সেখান থেকে টাকা যাবে কৃষকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কৃষকদের তরফে ঋণ পরিশোধের গ্যারান্টার হয় সিমভাওলি সুগার মিল। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই চিনি কারখানার তরফে ভুয়ো কেওয়াইসি নথি পেশ করে তহবিলের টাকা নয়ছয় করা হয়। ২০১৫ সালে ওবিসি ঋণ জালিয়াতির কথা ঘোষণা করে।

Advertisement

 

‘টাকা উদ্ধার হয়নি বলিনি’, উল্টো সুর দমকল কর্তার

গত ১৪ মার্চ আগুন লেগেছিল বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাংলোয়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল পুলিস ও দমকল। অভিযোগ, আগুন নেভানোর পর দিল্লি হাইকোর্টের ওই বিচারপতির বাড়ি থেকে ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। শুক্রবার দিল্লি দমকল বিভাগের প্রধান অতুল গর্গ জানিয়েছিলেন, টাকা উদ্ধারের কথা তাঁর জানা নেই। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই রিপোর্টের সত্যতা খারিজ করে দিলেন স্বয়ং গর্গ। বললেন, দমকল বিভাগ টাকা উদ্ধারের কথা জানে না এমন কোনও কথা কোনও সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেননি। কেন তাঁর নাম নিয়ে এধরনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।   

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ