সংবাদদাতা, মানিকচক: পাড়া-প্রতিবেশীর কথায় শ্বশুরবাড়ির লোকের বাড়ির বউয়ের উপর সন্দেহ। যাকে ঘিরে পারিবারিক বচসা। অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা মানিকচকের এক গৃহবধূর। মৃত্যুর আগে ছেলেকে দেখার কথা বাবার বাড়িতে ফোন মারফত জানিয়ে যান গৃহবধূ রুম্পা ঘোষ (২১)।
তিন বছর আগে প্রেম করে ছোট ধরমপুরের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় রুম্পার। বিয়ের পর থেকে ভালোই চলছিল সংসার। পরিবারে বৃদ্ধা মা ছাড়াও রয়েছে এক সন্তান। বধূর পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন আগে গ্রামের এক মহিলা ফোন মারফত রুম্পার শ্বশুরবাড়িতে জানায়, বাড়ির বউ পরপুরুষের সঙ্গে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার বচসা হয়। রুম্পার বাপের বাড়িতেও বিষয়টি জানান স্বামী। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে ফোন করেন তাঁর বাবা। কিন্তু ফোনে সদুত্তর দেননি মেয়ে। সন্ধ্যা নাগাদ রুম্পা বাপের বাড়িতে ফোন করেন এবং নাবালক সন্তানকে দেখে রাখার কথা জানান। মেয়ের কথা শোনার পরই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা তড়িঘড়ি মেয়ের বাড়ি যায়। কিন্তু পৌঁছনোর আগেই সব শেষ। নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় রুম্পার।
মৃতার বাবা অতুল ঘোষ বলেন, একটি মিথ্যে অপবাদের কারণে আমার মেয়েকে মরতে হল। পরকীয়ার মিথ্যে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। যারা অপবাদ রটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ জানাব।
মানিকচক থানার এক আধিকারিক বলেন, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।