Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উম-পুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের ছাউনি মেরামত হয়নি পাঁচ বছরেও, দুর্ভোগ খুদে পড়ুয়াদের  

উম-পুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের ছাউনি মেরামত হয়নি পাঁচ বছরেও, দুর্ভোগ খুদে পড়ুয়াদের
 
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাঁথি: পাঁচ বছর আগে ‘উম-পুন’ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে উড়ে গিয়েছিল অ্যাসবেস্টসের ছাউনি। সেই ছাউনি আজও মেরামত হয়নি। ছাউনি না থাকায় ছাদে জমা জল চুঁইয়ে পড়ে এবং ক্লাসরুমের মধ্যে ঢুকে যায়। শিশুপড়ুয়ারা এই বেহাল পরিস্থিতির মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে পড়াশোনা করে আসছে। এই ছবি কাঁথি-৩ ব্লকের দেবেন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের শতবর্ষ প্রাচীন মুড়িসাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এই অবস্থায় ছাউনি মেরামত ও ভবন সংস্কারের দাবি তুলেছেন অভিভাবক, শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট সকলে। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, ১৯০৮ সালে এই বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সেই হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বয়স ১১৭ বছর। দ্বিতলবিশিষ্ট ভবনের উপরে দু’টি এবং নীচে দু’টি করে ক্লাসরুম রয়েছে। ২০২০ সালে উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে গিয়েছিল বিদ্যালয়ের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি। তারপর থেকে আর সারানো হয়নি। আপাতত নীচের তলায় দু’টি রুমে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন চলে। শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ জন পড়ুয়া কোনওরকমে গাদাগাদি করে বসে। তার মধ্যে একটি রুমে মিড ডে মিলের চালের বস্তা এবং রান্নার সরঞ্জাম থাকে। সেই রুমেও কিছু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এদিকে একতলার ছাদ চুঁইয়ে নীচে জল পড়ে। বৃষ্টি হলেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকদের। পাঁচ বছর ধরে বৃষ্টির জমা জলে ছাদের অবস্থা বেহাল হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি যা, যে কোনও সময়ে ছাদ থেকে সিমেন্টের পলেস্তারা খসে পড়ে জখম হতে পারে পড়ুয়ারা। শুধু তাই নয়, বৃষ্টি হলেই জল চুঁইয়ে নেমে আসে। তখন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বারান্দায় ক্লাস করান শিক্ষকরা। শুধু তাই নয়, মিড ডে মিলের রান্নার সামগ্রীও জলে ভিজে নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশার জন্য ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বছর বছর কমছে। অভিভাবকরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। 
বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক প্রদীপকুমার মণ্ডল বলেন, কোনওরকমে শিশুপড়ুয়াদের নিয়ে ক্লাস করতে হয়। কখন কী হয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় থাকি। ছাউনি মেরামত ও ভবন সংস্কারের ব্যাপারে বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি। কোনও ফল হয়নি। 
স্থানীয় বাসিন্দা শান্তনু মাইতি, বিশ্বজিৎ মেইকাপ প্রমুখ বলেন, পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি। ছাত্রছাত্রীদের কথা কেউ ভাবছেন না। একটা স্কুলের ছাউনি যদি না সারানো হয়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কী হাল, সেটাই সহজে অনুমান করা যায়। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, কাঁথি মহকুমা এলাকায় বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ই উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলেছি। বিডিও দীপকুমার ঘোষ বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। ওই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে একটি স্কিম তৈরি করে অর্থ বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষাদপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই অর্থ বরাদ্দ এবং কাজ হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ