নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: রেস্তরাঁ, খাবারের স্টল, দোকানে লাগাতার অভিযান। শহর থেকে জেলা— ছবিটা একই। কোথাও মিষ্টিতে ছাতা পড়ে গিয়েছে, কোথাও আবার ফ্রিজে মজুত করা মাছ, মাংস সব পচে গিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন রুখতে কড়া প্রশাসন। শনিবার চলল দেদার অভিযান।
এদিন সকালে কলকাতার ডেকার্স লেন বা জেমস হিকি সরণিতে অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার বিশেষ টিম। সেখানে একাধিক দোকানের খাবার পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। বিখ্যাত পাউরুটি-স্ট্যু বিক্রেতা থেকে চাউমিন-চিলি চিকেন স্টলে হানা দেয় টিম। এমনই একটি খাবারের দজোকান থেকে মেলে মাখা সন্দেশ। যার উপরে ছত্রাকের বাস। সেই খাবারই পরিবেশন করা হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। সেই দোকানের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন অভিযানকারীরা। একইসঙ্গে, খারাপ খাবার ফেলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হাওড়ার লিলুয়ার কোনার বাগপাড়ার একটি রেস্তরাঁয় প্রশাসনের অভিযানে এমনই ছবি ধরা পড়ল। ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে এল দুর্গন্ধ। ছত্রাক ধরা মাছ-মাংসের পাশাপাশি মিলেছে পচা তন্দুরি চিকেন, ললিপপ, চিংড়ি, মোমো। অভিযোগ, ওই খাবারই ক্রেতাদের পরিবেশন করা হচ্ছি ল।এদিন দুপুরে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব প্রথমে ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, পচা মাছ-মাংস ব্যবহার করে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। এরপর লিলুয়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষার জন্য সেগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিন রেস্তরাঁর মালিককে নোটিস দেওয়া হয়। পরে লিলুয়া থানার পুলিশ রেস্তরাঁটি সিল করে দেয়। শনিবার অভিযানে নেমে জীবনতলার একাধিক দোকান ও কারখানায় অনিয়ম ধরলেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। কোথাও বিরিয়ানির দোকান চলছে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই। কোথাও আবার বিনা ফুড লাইসেন্সে মিষ্টির কারখানা চলছিল। এরকম পাঁচটি জায়গা বন্ধ ও সিল করা হল এদিন। প্রায় ৫০ কেজি নষ্ট হওয়া বিরিয়ানি ফেলে দিয়েছেন আধিকারিকরা।