শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীপুজোয় বারাসতের নামডাক সারা রাজ্যেই। কিন্তু বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোতেও পিছিয়ে নেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর শহর। এখানকার একাধিক বিগ বাজেটের পুজো কমিটি প্রতিবছরই নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আর সেই তালিকায় রয়েছে শহরের উত্তর অশ্বিনীপল্লি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এবছর তাদের পুজোর থিম ‘১৪ বছরের উন্নয়নের বাংলা’। আর এখানকার দুর্গাপ্রতিমা একটু অন্যরকমভাবে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। কারণ, এখানে উমা আসবেন সন্তানদের কাঁধে চড়ে। মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে উমা সন্তানদের কাঁধে চেপে বাপের বাড়িতে আসছেন। একটা সময় গ্রামগঞ্জে বরকনে আসার ক্ষেত্রে পালকির চল ছিল। কিন্তু কালের নিয়মে তা হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার বারাসতের অশ্বিনীপল্লির পুজো কমিটি তাদের থিম ভাবনায় সেই পুরোনো দিনের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। ২৩তম বর্ষে মণ্ডপে উমা অধিষ্ঠিত হবেন বাঁশের উপর। আর সেই বাঁশ কাঁধে নিয়ে থাকবেন তাঁর সন্তানরা। চারদিকে চারজন যুবক কাঁধে বাঁশ দিয়ে প্রতিমা ধরে রাখবেন। এর জন্য ১০ জন যুবক ঠিক করা হয়েছে। তাঁরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উমাকে কাঁধে রাখবেন। গত দুবার সমাজ সচেতনতায় বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পেয়েছে এই পুজো কমিটি। তাই গতবারের প্রাপ্ত শারদ সম্মানের আদলেই তৈরি হচ্ছে দুর্গামণ্ডপ। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা চৈতালি ভট্টাচার্য বলেন, মণ্ডপে প্রবেশ করার আগে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প একনজরে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি করা হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের গেট। আমাদের ফাইবারের প্রতিমা বাঁশে চাপিয়ে ধরে থাকবেন চারজন যুবক। অন্যদিকে, বারাসতের বরিশাল কলোনির সবুজ সংঘের দুর্গোৎসব কমিটির ৬৪তম বর্ষে থিম ভাবনা ‘অপারেশন সিন্দুর’। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হাতে নিহত হন ভারতীয়রা। তারপরেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা অপারেশনের করে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি একের পর এক ধ্বংস করা হয়। এবার সেই ভাবনা থেকেই এবার বারাসতে তৈরি হয়েছে অপারেশন সিন্দুর থিম। যেখানে ভারতীয় সেনার দ্বারা পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। পুজো কমিটির সভাপতি বিপ্লব সান্যাল বলেন, থিমের মাধ্যমে আমরা অপারেশন সিন্দুরের বিভিন্ন মুহূর্তগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে স্কিনের মধ্য দিয়েও সেই মুহূর্তের বিভিন্ন চিত্র আমরা তুলে ধরব। সঙ্গে থাকছে সুসজ্জিত আলোকসজ্জাও। আমরা আশাবাদী এবারের থিম দর্শকদের নজর কাড়বে।



