Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’মাস আগেও বাড়ি এসেছিল উমর, নির্দোষ বলছে পরিবার

‘স্বামী নির্দোষ। সে কিছুই জানে না। মহামান্য আদালতের কাছে বিচার চাইব।’ ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এক নিঃশ্বাসে বললেন দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার উমর ফারুকের স্ত্রী সেবি খাতুন।

দু’মাস আগেও বাড়ি এসেছিল উমর, নির্দোষ বলছে পরিবার
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, মানিকচক: ‘স্বামী নির্দোষ। সে কিছুই জানে না। মহামান্য আদালতের কাছে বিচার চাইব।’ ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এক নিঃশ্বাসে বললেন দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার উমর ফারুকের স্ত্রী সেবি খাতুন।

Advertisement

মালদহের মানিকচক থানা এলাকার গোপালপুর অঞ্চলের অশ্বিনটোলার বাসিন্দা উমর শনিবার দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। রবিবার সেই খবর গ্রামে পৌঁছতেই অবাক প্রতিবেশীরা। গ্রামের ছেলের দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও জঙ্গিযোগের অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন উমরের বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানরা। 
স্ত্রীর কথায়, রবিবার দিল্লি পুলিশ টেলিফোন করে উমরের গ্রেপ্তারির ঘটনা জানায়। হিন্দিতে পুলিশ জানায়, আমার স্বামী মেট্রো স্টেশনে পোস্টার লাগিয়েছিল। সেজন্য তাঁর বিরুদ্ধে আতঙ্কবাদীর মামলা দিয়েছে। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা উমর শ্রমিকের কাজ করতে কয়েক বছর আগে দিল্লিতে চলে যায়। বাড়িতে কোনো মাসে পাঁচ, কখনো দশ হাজার টাকা পাঠাত সে। রোজা উপলক্ষে কিছুদিন আগে ফোন করে বাড়িতে আসার কথাও বলেছিল। বছর পাঁচেক আগে বাবা অসুস্থ হওয়ার পর সে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দেয়। তারপর দিল্লি সহ অন্য রাজ্যে কাজ করার পর বছরখানেক আগে কলকাতায় ফিরে আসে। সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত বলে পরিবারের সদস্যরা জানতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতেও আসত। দু’মাস আগে শেষবার গ্রামে ফিরেছিল সে। তার বিরুদ্ধে মেট্রো স্টেশনে দেশবিরোধী পোস্টার লাগানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেজন্য শনিবার দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল কলকাতা থেকে উমরকে গ্রেপ্তার করে।
উমরের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও অন্ধকারে প্রতিবেশীরা। কেউ জানেন সে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। অনেক আবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস বলেও জানেন। ফলে উমরের কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রতিবেশীরা সঠিকভাবে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য মনিরুল শেখ বলেন, ছেলেটা শিক্ষিত ছিল। চাকরির জন্য ছোটাছুটি করছিল। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি ভেঙে পড়েছেন। বাবা বলেছেন, ছেলেটা এরকম নয়। গ্রামের সবাই সেকথা জানে। 
এদিকে উমরের গ্রেপ্তারি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি। দলের দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, শুধু একজন উমর ফারুক নয়, এর মতো হাজারো জঙ্গির আঁতুড়ঘর এই বাংলা। পালটা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মানিকচক ব্লক তৃণমূল সভাপতি মাহফুজুর রহমানের কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। হয়ত এক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাব। • ছেলে জঙ্গি! বিশ্বাসই হচ্ছে না উমরের পরিবারের। - নিজস্ব চিত্র। 

সম্পর্কিত সংবাদ