নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নৈহাটিতে প্রাচীন বাড়ির পুজোর মধ্যে অন্যতম সরকার বাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজোর বয়স ৩২৬ বছর। বড়মা মন্দিরের সামনে সরকার বাড়িতে সেই সময় স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু হয় মা দুর্গার আরাধনা। এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, মাকে রান্না করা ভোগ দেওয়া হয় না। বদলে দেওয়া হয় কাঁচা সবজি, চাল, ডাল, তেল, ঘি, নুন, মশলাপাতি। সবজি অবশ্য গোটা নয়, সেসব দেওয়া হয় কেটে। মাকে মিষ্টি হিসেবে দেওয়া হয় ঘরে তৈরি নাড়ু। ভোগে সন্দেশ বা অন্যান্য মিষ্টির ব্যবহার এ বাড়িতে নিষিদ্ধ।
এই পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ গ্রামে। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই পুজো শুরু করেছিলেন রামানন্দ দে সরকার। রাজা কর্ণ সেনের বংশধর ছিলেন তিনি। এই বনেদি পরিবারের পুজোয় ভোগে কাঁচা সবজি, চাল, ডাল দেওয়ার পিছনে সেই স্বপ্নাদেশের কথাই শোনা গেল। বংশ পরম্পরায় এই নিয়ম মেনেই একচালার প্রতিমায় আরাধনা হয় মা দুর্গার। সাধারণ প্রতিমার সঙ্গে এই প্রতিমার একটু পার্থক্য রয়েছে। মহিষাসুরের আদল এখানে ভিন্ন রকম। মহালয়ার পরের দিন থেকেই পুজো শুরু হয় সরকার বাড়িতে। প্রতিপদে বসানো হয় ঘট। এই বাড়িতে কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো হয় না, তবে কালীপুজোর দিন মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। হয় নারায়ণ পুজোও। নৈহাটিতে কাত্যায়নী স্কুলের সামনে এই বাড়ি ‘জমিদার বাড়ি’ বলেই পরিচিত। এখন চলছে একচালার প্রতিমা তৈরির কাজ। কালের নিয়মে পুজোর আচারে কিছু বদল আনা হলেও জাঁকজমক বা আয়োজন আগের মতোই। সরকার পরিবারের ১৩০ জন সদস্য এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। এই পরিবারের অন্যতম সদস্য সৌমেন সরকার বলেন, নৈহাটিতে বাড়ির পুজো বলতে সব থেকে পুরোনো আমরাই। ৩২৬ বছর ধরে একটানা পুজো হয়ে আসছে। যেহেতু আমরা ব্রাহ্মণ নই, তাই আমরা ভোগের রান্না করতে পারি না। স্বপ্নাদেশেই কাঁচা ভোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। খিচুড়ি বা অন্য ভোগ তৈরি করতে যা লাগে, সবই দেওয়া হয়। সবজি কেটে দেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র