Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্য বাড়িতে পোড়া মুখের উমা আরাধনা

এক আকস্মিক ঘটনা বদলে দিয়েছিল ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজোর চরিত্র। প্রায় ৩০০ বছর আগে তখন পুজো হতো বাংলাদেশে। দুর্গামন্দিরে পুজোর অনুষ্ঠান চলছিল। পাশেই ছিল মনসাদেবীর মন্দির।

ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্য বাড়িতে পোড়া মুখের উমা আরাধনা
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা  দক্ষিণ ২৪ পরগনা

Advertisement

এক আকস্মিক ঘটনা বদলে দিয়েছিল ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজোর চরিত্র। প্রায় ৩০০ বছর আগে তখন পুজো হতো বাংলাদেশে। দুর্গামন্দিরে পুজোর অনুষ্ঠান চলছিল। পাশেই ছিল মনসাদেবীর মন্দির। সেখানে প্রদীপ জ্বলছিল। হঠাৎ একটি কাক জ্বলন্ত পলতে নিয়ে উড়ে যায়। তারপর দুর্গামন্দিরের শনের তৈরি চালে সেটি ফেলে দেয়। তার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মন্দিরের চাল ও দুর্গার মূর্তি যায় পুড়ে। এই ঘটনার পর বাড়ির সবাই ধরে নিয়েছিলেন, মা হয়তো এই পুজো চাইছেন না। এটা তাঁরই নির্দেশ। এরপর পরিবারের এক সদস্য ধ্যানে বসেন। তখনই দুর্গা তাঁকে নির্দেশ দেন, পুজো বন্ধ করা যাবে না। এই পোড়া মুখের মূর্তিকেই পুজো করতে হবে। সেই থেকে এই বাড়িতে পোড়া রূপেই পূজো দুর্গার। এই বনেদি বাড়ির পুজো এবার ৪৪১ বছরে পা দিল। ১৯৪৭ সালে ভারতে চলে আসে পরিবারটি। বসবাস শুরু করে ক্যানিংয়ে। এখন ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্য পরিবারের পুজো বলেই পরিচিত। পুরানো কালের পুজোর রীতি, নিয়ম ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই আরাধনা হয় দুর্গার। ভট্টাচার্য পরিবারের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় পাঠা ও মহিষ বলি হতো। এখন সেই প্রথা উঠে গিয়ে শুধু ফল বলি দেওয়া হয়। বংশধররা বিভিন্ন কাজের সূত্রে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে গিয়েছেন বলে আগের থেকে জাঁকজমক কমেছে। জন্মাষ্টমী তিথিতে কাঠামো পুজো হয়। তারপর শুরু হয় প্রস্তুতি। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একই কাঠামোয় পুজো হয়ে আসছে। পরিবারের সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য বলেন, এপারে আসার পর বাংলাদেশ থেকে প্রতিমার কাঠামো নদীপথে নিয়ে আসা হয়েছিল। কখনও যদি কাঠামোয় কোনও অংশ বদল করার প্রয়োজন পড়ে তখন সেইটুকু পরিবর্তন করা হয়েছে। না হলে শুরু থেকেই একটি কাঠামোতেই ঠাকুর তৈরি করে পুজো হয়ে আসছে।
এই বাড়ির পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব হল, দুর্গার বাঁদিকে থাকে গণেশ। পুরা  ণের কথা ধরে কার্তিক ও গণেশের জায়গার অদল বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড়ির লোকজন। এখনও এই ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। গ্রামবাসীদের ভিড় তো লেগেই থাকে। বাড়ির সদস্যরা বলেন, পুজোর জৌলুস কমলেও বনেদিয়ানায় কোনও ভাটা পড়েনি। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ