Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তার পরও পালকের সমস্যা না মেটায় হতাশ উলুবেড়িয়ার শাটল কক নির্মাতারা

সাদা পালকের অভাবে সংকটে ভুগছে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় শাটল কক শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ার পর দু’বছর কাটলেও মিলছে না উপযুক্ত সাদা পালক। হতাশ ব্যবসায়ীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তার পরও পালকের সমস্যা না মেটায় হতাশ উলুবেড়িয়ার শাটল কক নির্মাতারা
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সাদা পালকের অভাবে সংকটে ভুগছে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় শাটল কক শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ার পর দু’বছর কাটলেও মিলছে না উপযুক্ত সাদা পালক। হতাশ ব্যবসায়ীরা।   
একসময় জগৎ বিখ্যাত ছিল উলুবেড়িয়ার শাটল কক। কক তৈরির অন্যতম কাঁচামাল সাদা হাঁসের পালক। সেই পালকের জোগান প্রায় শূন্য। বছর দুয়েক আগে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পালকের সমস্যা মেটাতে পশু পালন দপ্তরকে উদ্যোগী হতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড থেকে বিশেষ প্রজাতির সাদা হাঁসের বাচ্চা হরিণঘাটায় নিয়ে এসেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, এগুলি বড়ো করার পর মাংস ও পালক সংগ্রহ করা হবে। যা শাটল কক তৈরিতে পালকের সমস্যা মেটাবে। আশায় বুক বেঁধেছিলেন উলুবেড়িয়ার শাটল কক তৈরির ব্যবসায়ীরা। তবে প্রায় দু’বছর কেটে গেলেও পালকের সমস্যা না মেটায় তাঁরা হতাশ। প্রশাসন সূত্রে খবর, হরিণঘাটায় প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement


শাটল ককের জন্য একসময় হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া, যদুবেড়িয়া, বাণীবন এলাকা বিখ্যাত ছিল। সেই সময় উলুবেড়িয়ার এইসব এলাকায় ঘরে ঘরে শাটল কক তৈরি হত। বর্তমানে পালকের অভাবে ধুঁকছে রাজ্যের অন্যতম শিল্প। পালকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে চিনা শাটল ককের দাপটে  পাল্লা দিতে পারছে না এই রাজ্যের শাটল কক। বছর দুয়েক আগে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে শাটল কক শিল্পে সাদা হাঁসের পালকের অভাবের বিষয়টি জানতে পারেন এবং পশু পালন দপ্তরকে সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড থেকে বিশেষ প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা হরিণঘাটা ফার্ম হাউসে নিয়ে আসা হয়। যদিও সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। উলুবেড়িয়ার শাটল কক নির্মাণকারী বাসু খান জানান, সাত-আট মাস আগে যে পালকের দাম ছিল প্রতি হাজারে  ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, সেটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা। তার উপর বাংলাদেশ থেকে পালক আসা বন্ধ। এমনকি হরিণঘাটা থেকে পালক পাওয়ায় কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে চিনা শাটল ককের সঙ্গে আমরা পাল্লা দিতে পারছি না। সরকার যদি সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয় তাহলে আমরাও চিনা শাটল ককের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারব। উলুবেড়িয়া চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক প্রবীর রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও একশ্রেণির সরকারি আমলাদের নিষ্ক্রিয়তার ফলে এটা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, হাওড়া জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখানকার আবহাওয়ায় হরিণঘাটায় এখন ওই ধরনের হাঁস চাষ হচ্ছে না। যে কারণে ওখান থেকে পালক পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল ডাক বিডিং সেন্টারের সঙ্গে কথা বলে চিঠিপত্র দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে বরাতও দেওয়া হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ