নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের উড়ালপুলের দু’পাশে রাস্তা তৈরি কাজ দ্রুত শুরু হবে। উড়ালপুলের দু’পাশে দোকানপাট রয়েছে।রাস্তা না হওয়ায় ব্যাবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। উড়ালপুলের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে ২ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ হবে। দীর্ঘ একদশক অপেক্ষার পর রাস্তা তৈরির উদ্যোগে স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত।
Advertisement
রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ২০১১ সালের আগস্টে উড়ালপুল তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি বরাদ্দ হয় উড়ালপুলের জন্য। উড়ালপুলের কাজ২০১৫ সালে শেষ হয়। শহরের পাঁচমাথা মোড় সংলগ্ন এলাকায় যানজট কমে। উড়ালপুল তৈরি হলেও দু’পাশে রাস্তা ছোট হয়ে যায়। রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে সমস্যায় পড়েন। সরু গলি রাস্তার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের বাসিন্দাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ব্যাবসা বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। জুবিলী মার্কেটর ব্যাবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। রাস্তা দু’টি তৈরির জন্য স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা প্রশাসনের কাছেলাগাতার আবেদন শুরু করেন। তাতেওকাজ না হওয়ায় পথ অবরোধ,আন্দোলন শুরু হয়। উড়ালপুলের দু'ধারের ব্যাবসায়ীদের একটা অংশ দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ব্যাবসায়ীরা শহরের অন্য জায়গায় দোকান সরিয়ে নিয়ে যান। জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং রাস্তা তৈরির জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন।তারপরেও কাজ শুরু করা যায়নি। স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশ্য উড়ালপুলের দু'পাশের রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। উড়ালপুলের দক্ষিণ অংশের মিষ্টি ব্যাবসায়ীগোপাল মান্না বলেন,রাস্তা দুটো না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। আগে যা ব্যাবসা হতো তার অর্ধেক কমে গিয়েছে।ক্ষতির মুখে পড়ে অনেকে ব্যাবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।যাদের সামর্থ্য আছে তাঁরা শহরের অন্য জায়গায় দোকান করে চলে গিয়েছেন।পূর্ব দিকটা সরকারের জায়গা।পশ্চিম দিক রায়তদের। পূর্ববর্তী জেলা শাসকের আবেদন মতোকয়েকজন বাদ দিলে সব ব্যাবসাদাররা প্রশাসনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল।কাজ চলাকালীন ক্ষতিপূরণ ছাড়াও বিনামূল্যে জল,বিদ্যুৎ , রাতে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তারপরেও কোনও কাজ হয়নি।সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।প্রশাসন দুটো রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার খবরে ভালো লাগছে। অপর ব্যাবসায়ী বিকাশ ঘোষ বলেন, একসময় শহরের ব্যাবসা বানিজ্যের মূল কেন্দ্র ছিল জুবিলী মার্কেট সংলগ্ন এলাকা।রাস্তা দুটো গলিতে পরিণত হয়। মানুষজনের যাতায়াত কমে যায়। নিত্যদিন গলি রাস্তার ওপর থাকা স্লাব ভেঙে দূর্ঘটনা ঘটেছে।খানাখন্দ গলিতে হাঁটা যায়না।আমরা চাই যেকোনও মূল্যে রাস্তা তৈরি হোক। জুবিলী মার্কেটের কাপড় ব্যাবসায়ী পতিত পাবন ঘোষ বলেন,উড়ালপুলের দু’পাশে রাস্তা দুটি তৈরি না হ ওয়ায় বাজারে ব্যাবসা মার খাচ্ছে। রাস্তা তৈরির জন্য বারবার দাবি জানানো হয়েছে।অবশেষে দাবি পুরণ হতে চলায় স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছি। পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, আইনি জটিলতা ও জমিজটের কারণে রাস্তা তৈরির সমস্যা তৈরি হয়েছিল। উড়ালপুলের উত্তর অংশের কিছু কাজ হয়েছে।অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।দ্রুত কাজ শুরু হবে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে।জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, উড়ালপুল,উত্তর অংশের রাস্তা তৈরির জন্য আগেই অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। এবার দক্ষিণ অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।রাস্তা তৈরির কাজ দ্রুত শুরু হবে।



