নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এলইডি লাইটের ডিসপ্লে বোর্ড আজকাল আকছার দেখা যায়, দোকানে, বাসে, ক্লাবে এমনকী পুজো মণ্ডপেও। অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই কন্ট্রোল করা যায় এই বোর্ডগুলি। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপে যা লিখে দেওয়া হয়, তাই ভেসে ওঠে ডিসপ্লে বোর্ডের পর্দায়। ডেকরেটররা পুজো মণ্ডপে কিংবা আলোকসজ্জার তোরণে উদ্যোক্তাদের নাম এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার নাম লেখার জন্য এই বোর্ড ব্যবহার করছে। এমনই একটি ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহার করতে গিয়ে বেলডাঙায় ঘটে যায় বিপত্তি। অ্যাপের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে কুরুচিকর মন্তব্য লিখে দেওয়া হয়েছিল বোর্ডে। তারপর সেটির ভিডিও তুলে কোনও দুষ্কৃতী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে গিয়ে তৈরি করে অশান্তি। যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিসকে।
Advertisement
এবার এই ধরনের ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডের ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে পুলিস। মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত ডেকরেটর এবং আলো সরবরাহকারীদের কাছে গিয়ে এই এলইডি ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডের ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিসের তরফ। বলা হচ্ছে, যাদের কাছে এই বোর্ড আছে, তারা যেন অবিলম্বে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই বোর্ডের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে। যাতে খুব সহজেই কারও পক্ষে সেই পাসওয়ার্ড হ্যাক করা সম্ভব না হয়। জানা গিয়েছে, এই সমস্ত বোর্ডের অধিকাংশ জায়গায় পাসওয়ার্ড আট ডিজিটের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা। আলোর বোর্ডটি নতুন কেনার পর থেকেই একই পাসওয়ার্ড বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করে থাকেন ডেকরেটররা। সেই পাসওয়ার্ড অধিকাংশ যুবকই জানেন। অনেক ডেকরেটর পুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপে আলোকসজ্জা তৈরি করে দিয়ে তাদের ফোনেই এই অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে দেন। তাঁরাই পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে ক্লাবের নাম দিয়ে ওই অ্যাপের মাধ্যমে ডিসপ্লে বোর্ডে লেখা ফুটিয়ে তোলেন। এভাবে সহজেই এই পাসওয়ার্ড সকলের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এই ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহার করছে। তাই কঠোর হচ্ছে পুলিস। সোমবার মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলার সমস্ত থানার আইসি, ওসি, এসডিপিও, ডিএসপিদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন পুলিস সুপার। সেখানে প্রত্যেকটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিজের নিজের এলাকার ডেকরেটর এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীদের এই ডিজিটাল বোর্ডের ব্যাপারে সচেতন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পুলিস সুপার।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বেলডাঙার এই ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এই ধরনের ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে খুব বড় অপরাধ সংগঠিত করা সম্ভব। সামান্য একটা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে নিলেই যে কেউ এই বোর্ড অপারেট করতে পারছে। খুব সহজ পাসওয়ার্ড দ্বারা সংরক্ষিত থাকে এই বোর্ডগুলি। তাই সমস্ত ডেকোরেটর এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীরা যাতে এই বোর্ডের ব্যাপারে সচেতন হন এবং এই পাসওয়ার্ড যাতে অবিলম্বে পরিবর্তন করেন তা বলা হচ্ছে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বেলডাঙার এই ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এই ধরনের ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে খুব বড় অপরাধ সংগঠিত করা সম্ভব। সামান্য একটা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে নিলেই যে কেউ এই বোর্ড অপারেট করতে পারছে। খুব সহজ পাসওয়ার্ড দ্বারা সংরক্ষিত থাকে এই বোর্ডগুলি। তাই সমস্ত ডেকোরেটর এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীরা যাতে এই বোর্ডের ব্যাপারে সচেতন হন এবং এই পাসওয়ার্ড যাতে অবিলম্বে পরিবর্তন করেন তা বলা হচ্ছে।



