Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদ্ধার হওয়া মৃত ভ্রূণ মর্গে পাঠিয়ে দায় সারে প্রশাসন

উদ্ধার হওয়া মৃত ভ্রূণ মর্গে পাঠিয়ে দায় সারে প্রশাসন
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কপালে তিলক। মুখে সর্বদা লেগে রয়েছে হরি’র নাম। একদম নিপাট ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায়। বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকার সকলের কাছে সে ‘ডাক্তারবাবু’ নামে পরিচিত। তারজন্য অবশ্য তাকে এমবিবিএস করার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু তারপরও তার নার্সিংহোমে রোগীর অভাব ছিল না। বিশেষ করে যুবতীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়দের কিছুটা সন্দেহ হতোই। কিন্তু এমন ‘ভদ্রলোক’ এর বিরুদ্ধে মুখ খুলবে এমন সাহস কারও ছিল না। কিন্তু গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে নার্সিংহোমের সামনে ড্রেন থেকে জোড়া ভ্রূণ উদ্ধার হওয়ার পর আর চুপ ছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ভ্রূণ দু’টি হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার দাবিতে সরব হন। ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। অবশেষে ‘কীর্তিমান’কে শ্রীঘরে যেতে হয়। 
Advertisement
সে শ্রীঘরে গেলেও বর্ধমানের ‘ডি সিন্ডিকেটের’ সঙ্গে যুক্ত কাউকে জেলে যেতে হয়নি। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটেও জোড় ভ্রূণ উদ্ধার হয়েছিল। গত সপ্তাহে তেলিপুকুর এলাকাতেও ভ্রূণ উদ্ধার হয়। পুলিস সেটি মর্গে পাঠিয়ে দায় সেরেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের হাত অনেকটাই লম্বা। সেকারণে ভ্রূণ মর্গে পাঠানো ছাড়া আর কিছুই হয় না। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত কেউই এই শহরে গ্রেপ্তার হয়নি। যেসব জায়গায় এধরনের অপারেশন হচ্ছে সেখানকার মালিকের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেকারণেই এই সিন্ডিকেটের রমরমা বেড়েছে বলে অভিযোগ। 
বর্ধমানের এক বাসিন্দা বলেন, বহু বছর ধরেই মৃত ভ্রূণ শহর লাগোয়া ঝোপঝাড়ে উদ্ধার হচ্ছে। কখনও কখনও কুকুরে সেগুলি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে শহরের বাসিন্দারা শিউরে উঠছেন। তেলিপকুর এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দাস বলেন, কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া ভ্রূণটিকে দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বারবার এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। প্রশাসন সিন্ডিকেটের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই রমরমিয়ে অবৈধ কারবার চলছে। তারা রাতের অন্ধকারে ভ্রূণ ফেলে যাচ্ছে। প্রশাসন একটু চেষ্টা করলেই তাদের চিহ্নিত করতে পারে। যে বা যারা সেটি ফেলছে তাদের চিহ্নিত করতে পারলেই সিন্ডিকেটের মাথাকেও পাকড়াও করা সম্ভব হবে। 
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, সভ্য সমাজে এসব মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। কোথায় অপারেশন হচ্ছে তা চিহ্নিত করার জন্য আমরাও নজরদারি শুরু করছি। প্রয়োজনে আমরাও বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করব। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো চিকিৎসকদের অনেকেই এই চক্রে জড়িত রয়েছে। তারা নিজেদের ঘরে ওটি তৈরি করছে। কিছুদিন আগে পুলিস এরকম একটি অবৈধ নার্সিংহোমের সন্ধান পেয়েছিল। দু’জনকে পাকড়াও করা হয়। কিন্তু অপারেশন ডি নিয়ে তদন্ত এগয়নি। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ