Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদ্বেগজনক হারে কমছে প্রাথমিকে পড়ুয়ার সংখ্যা

উদ্বেগজনক হারে কমছে প্রাথমিকে পড়ুয়ার সংখ্যা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সমগ্র বাংলা তথা দেশে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সেই বিদ্যাসাগরের নামে নামাঙ্কিত স্কুলেই আজ পড়ুয়া ভর্তি হয় না। স্কুল চত্বরে বাড়ছে নেশাড়ুদের আড্ডা। পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে শূন্যে নেমে গিয়েছে। ধূপডাঙা বিদ্যাসাগর প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন উদ্বেগের কারণ স্থানীয়দের কাছে। শুধু বিদ্যাসাগর বিদ্যালয় নয়, জেলার তিনটি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য। অত্যন্ত কম পড়ুয়া থাকা স্কুলের সংখ্যা যথেষ্ট। উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলিতেও পড়ুয়ার আকাল। শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি ছুটছেন পড়ুয়া সংগ্রহ করতে। উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে সদ্য যোগদান করার শিক্ষক শিক্ষিকারাও পড়ুয়ার সন্ধানে ঘুরছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সরকারি স্কুলগুলির পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিক্ষামহলে।
Advertisement
অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সঞ্জয় পাল বলেন, এই সময়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের ভর্তি করানোর জন্য শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে বলা হয়েছে। কোন কোন স্কুলে পড়ুয়া কমে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, আমাদের জেলার তিনটি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা শূন্য হয়ে গিয়েছে। বহু স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা দশ থেকে কুড়ির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সামগ্রিক রিপোর্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। 
আসানসোল পুরসভার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ধূপডাঙায় রয়েছে ধূপডাঙা বিদ্যাসাগর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ২০০১ সালে স্থাপিত স্কুলটির মাত্র ২৩ বছর বয়সেই অকাল প্রয়াণ হতে চলে চলেছে। জানা গিয়েছে, স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্যে নেমে গিয়েছে। আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও কেউ ভর্তি হয়নি। শহরের মাঝে এক সরকারি স্কুলের এই অবস্থা রীতিমতো উদ্বেগের। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এলাকায় একাধিক বেসরকারি স্কুল রয়েছে। সেই সব স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা আবার এই এলাকায় টিউশন পড়ান। তাঁরাই পড়ুয়াদের বেসরকারি স্কুলে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। এছাড়া স্কুলের পরিবেশও ঠিক নেই বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রতিদিন রাতে স্কুলে মদ-গাঁজার আসর বসে। সকালে পড়ে থাকে মদের বোতল। তা প্রচারিত হতেই অভিভাবকরা পড়ুয়াদের আর এমুখো করেননি। স্থানীয় বাসিন্দা হেমন্ত মণ্ডল বলেন, স্কুলটি এখন নেশাড়ুদের আড্ডা। এলাকাবাসীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হীরাপুর সার্কেলেরই কল্যাণপুর আর্দশ বিদ্যাপীঠের পড়ুয়া সংখ্যা শূন্যে নেমে গিয়েছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের জমিতে স্কুল। বিল্ডিং সংস্কার করার অনুমতি দেয়নি রেল। যার জেরে পড়ুয়া শূন্য হয়ে গিয়েছে। একই ভাবে জিটি রোডের আসানসোলের দুর্গা বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সংখ্যা আট। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি নয়, বহু উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিও পড়ুয়া সঙ্কটে ভুগছে। মহিশীলা গ্রাম উচ্চ প্রাথমিক ঩বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা ৪। এতদিন এই স্কুলটি চালাতেন একজন বয়স্ক গেস্ট টিচার। সদ্য উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগপত্র পেয়ে দু’জন শিক্ষক স্কুলে যোগদান করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, স্কুলের ভবিষ্যতের পাশাপাশি আপনাদের ভবিষ্যতও পড়ুয়ার সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। পড়ুয়ার অভাবে স্কুল বন্ধ হলে তাঁদের অন্যত্র বদলি হয়ে যেতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলে যোগদান করেই পড়ুয়া খুঁজতে বেরচ্ছেন নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
সম্পর্কিত সংবাদ