সংবাদদাতা, দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও মাথাভাঙা: রাজ্যজুড়ে ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে তরজা চলছে। মাথাভাঙাতে একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের সন্ধান মিলেছে। এবারে একই ঘটনা ঘটল দিনহাটায়। দিনহাটা বিধানসভার ভোটারদের এপিক নম্বরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ভোটারের নাম। অলিভা বর্মনের এপিক নম্বরে উত্তরপ্রদেশের দিদারগঞ্জ বিধানসভার ভোটার ভানা নামে একজন রয়েছেন। ঘটনার প্রকাশ্যে আসতেই নির্বাচন কমিশনকে বিঁধেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন— সত্য হে নির্বাচন কমিশন, তোমার কি প্রহসন! একই নম্বরে দু’টো নোট দেখিনি, দেখিনি একই নম্বরের দু’টো গাড়ি বা দু’টো মোবাইল ফোন। কত কি যে দেখাবে নির্বাচন কমিশন! বিভ্রান্ত ছড়াতেই তৃণমূলীরা এসব করছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে বলে বিজেপি দাবি করেছে।
মন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্র দিল্লির কায়দায় বাংলাতেও ভোটার ঢোকানোর চেষ্টায় রয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যের ভোটারদের এই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে। প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করছেন দলের কর্মীরা। সেই কাজ শেষ হতেই নির্বাচন কমিশনের স্মারকলিপি দেব আমরা। জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বিরাজ বসু বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতেই তৃণমূল অপপ্রচার করছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকতে পারে। এরপরে বিতর্কের কিছু হতে পারে না। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, মেখলিগঞ্জ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অরূপ ঘোষের এপিক নম্বর দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করলে দু’জন ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মেখলিগঞ্জ শহর তৃণমূলের সভাপতি বিষ্ণুপদ ঘোষ বলেন, রাজ্যজুড়েই ভুয়ো ভোটার রয়েছে। মেখলিগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বিজেপির মেখলিগঞ্জ শহর মণ্ডল কমিটির সভাপতি আশেকার রহমান বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কমিশন কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। মেখলিগঞ্জের এসডিও অতনুকুমার মণ্ডল বলেন, মেখলিগঞ্জের ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করে দেখা হবে। এনবিএসটিসি’র চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় বলেন, দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইতিমধ্যে চারশোর বেশি ভোটারের গরমিল নজরে এসেছে। প্রতিদিন সংখ্যা বেড়েই চলেছে।