Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্ছেদ অভিযানে তপ্ত বার্নপুর, মার ইসকোর আধিকারিককে

উচ্ছেদ অভিযানে তপ্ত বার্নপুর, মার ইসকোর আধিকারিককে
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বার্নপুর: উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বার্নপুর। বুধবার বার্নপুরের নিউ সিনেমা হলের কাছে ইস্কোর উচ্ছেদ অভিযান হতেই কয়েকজন দুষ্কৃতী ইস্কোর আধিকারিকদের মারধর ও পাথর দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। পরে বিপুল পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। জানা গিয়েছে, বার্নপুর শহরজুড়ে ইস্কোর কোয়ার্টার দখল করে ভাড়া খাটানোর একটি সিন্ডিকেট চলে। এদিনের আক্রমণের পিছনে রয়েছে তাঁরাই। ইস্কো কর্তৃপক্ষের দাবি, আ‌ইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। 
Advertisement
ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইস্কো আধিকারিকরা নির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমরা মামলা রুজু করে তদন্ত করব। 
৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ইস্কো সম্প্রসারণ ও আধুনিকীরণ হতে চলেছে। শুধু কারখানা আধুনিকীরণ নয়, বিপুল বিনিয়োগ করে ইস্কো টাউনশিপকেও আধুনিক করে তোলা হবে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। পুরনো একতলা জীর্ণ কোয়ার্টার ভেঙে শ্রমিকদের জন্য গড়ে উঠবে ১৪ তলা আবাসন। যার জেরে ধারাবাহিক ভাবে টাউনশিপে উচ্ছেদ অভিযান করছে কর্তৃপক্ষ। মাঝে ম঩঩ধ্যেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেও এদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বুধবার ইস্কোর টাউনশিপের মধ্যে থাকা নিউ সিনেমা হলের প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয় জেসিবি মেশিন দিয়ে। তারপরই তার পাশে থাকা কোয়ার্টারগুলি ভাঙা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ছিলেন ইস্কো ইডি (পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্টেশন) ইউ পি সিং স্বয়ং। ইস্কোর অভিযোগ, হঠাৎ ২০-২৫ জন দুষ্কৃতী উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিতে থাকে। তারপরই প্রকাশ ঠাকুর, বিকাশ ঠাকুর, দেবেন্দ্র ঠাকুরের নেতৃত্বে ইস্কোর কর্মী, আধিকারিকদের উপর পাথর বৃষ্টি শুরু করে দুষ্কৃতীরা। মারধরও করা হয়। ইস্কো তাদের প্রেস রিলিজে বিষয়টি উল্লেখ না কর঩লেও জানা গিয়েছে, মার খেয়েছেন খোদ ইউপি সিং নিজে। এরপরই বিশাল পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
যদিও স্থানীয় বাসিন্দা বিভা ঠাকুর, আশিকা দেবীরা বলেন, কোনও রকম নোটিস না দিয়েই আমাদের কোয়ার্টার ভাঙা শুরু করে ইস্কো। আমরা বাধা দিয়েছিলাম। ইস্কোর পুরুষ কর্মীরা আমাদের মহিলাদের মারধর করেছে। আমাদের কেউ তাঁদের মারধর করেনি। 
এই ঘটনার পরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বার্নপুরে কোয়ার্টার সিন্ডিকেটের প্রভাব। জানা গিয়েছে, ইস্কোর হাজারের বেশি কোয়ার্টার অবৈধ ভাবে দখল করে সেখানে ভাড়াটিয়া বসানো হয়েছে। প্রতি মাসে ভাড়া সংগ্রহ করা হয়। সেই টাকার ভাগ যেমন এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা পায়, তেমনি ইস্কোর কিছু  দুনীর্তিগ্রস্ত কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের পকেটেও ঢোকে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চললেও এতদিন এনিয়ে কেউ সরব হয়নি। এদিনের ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র বলেন, কোয়ার্টার দখল করে যারা ভাড়া খাটাচ্ছে তারাই এই হামলা চালিয়েছে। এরা বিজেপি কর্মী।
বিজেপি জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কাউন্সিলার যে পার্টি অফিসে বসে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, সেটিই অবৈধ। বার্নপুরের মানুষা জানে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয় তৃণমূল নেতারাই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ