Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে জঙ্গলমহলে হাতির সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ, নিরাপত্তার দাবি

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে জঙ্গলমহলে হাতির সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ, নিরাপত্তার দাবি
  • ১ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলাজুড়ে হাতির সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে উদ্বেগ বাড়ছে। গত প্রায় একমাস যাবৎ জেলায় এই বিপুল পরিমাণে হাতি থাকায় চাষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা গিয়েছে, শুধু মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় ৮৯টি হাতি রয়েছে। ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ বনবিভাগ অঞ্চলের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি উঠতে শুরু করেছে। 
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। বহু এলাকায় উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ারা সন্ধ্যার পর টিউশনি পড়তেও যেতে পারছেন না। এছাড়া বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সন্ধ্যার সময় হাতির দল খাবারের সন্ধানে জঙ্গল লাগোয়া জমিতে চলে আসছে। গত একমাসে সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। রূপনারায়ণ বনবিভাগের ডিএফও শিবানন্দ রাম বলেন, হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার ন্যায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। হাতিগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জঙ্গলমহলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাতি। দিন দিন হাতির সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। শুধু বাড়িঘর বা ফসলের ক্ষতি নয়, হাতির তাণ্ডবে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। জেলায় বিপুল পরিমাণে হাতির দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বনদপ্তরের আধিকারিকদের। তার মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, ৩ মার্চ এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য মোট ৭২টি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকবে। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৪০। জেলায় প্রায় ২০টির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। তবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য হাতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশেষ বৈঠকও হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় গত কয়েক মাসে হাতির সংখ্যা বেড়েছে। চাঁদড়া, পিড়াকাটা, আরাবাড়ি, গোদাপিয়াশাল রেঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি হাতি রয়েছে। অপরদিকে, রূপনারায়ণ বনবিভাগ এলাকায় মোট ২২টি হাতি রয়েছে। তার মধ্যে গোয়ালতোড়, হুমগড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি হাতির দল বিভিন্ন জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। অন্যদিকে খড়্গপুর বনবিভাগ এলাকাতেও হাতি রয়েছে। শালবনীর পিড়াকাটা এলাকার বাসিন্দা স্বপনকুমার পান বলেন, হাতির সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মাঝে মধ্যে অন্যত্র চলে যায়। সেই সময় শান্তি। কিন্তু ফের তারা ফিরে আসে। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ