নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী ট্যাঙ্কে কোনও পদার্থ মেশানোর ফলেই জলের রং গোলাপি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে এলাকায় সরবরাহ করা জলে অন্য কোথাও গোলাপি রঙের জলের কোনও নমুনা পাওয়া যায়নি। শনিবার একথা বিবৃতি দিয়ে জানাল হুগলির পিএইচই। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর জানিয়েছে, আরামবাগের ডিহিবাগনান এলাকায় সরকারি জল প্রকল্প থেকেই পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। তা যেমন গ্রামে দেওয়া হয়। একইভাবে ডিহিবাগনান প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নলবাহিত জল দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই জল ট্যাঙ্কে সঞ্চয় করে এবং ব্যবহার করে। ফলে ওই এলাকায় অন্যান্য জলের উৎসে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নজরে আসেনি। তাই কোনও দুষ্কৃতী স্কুলের ট্যাঙ্কে কিছু পদার্থ মিশিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনার দিকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও প্রশাসন নজরদারি করছে। ওই ট্যাঙ্কের জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ডিহিবাগনান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ট্যাঙ্কে গোলাপি রঙের জল দেখতে পাওয়া যায়। তারপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ ওই দিন স্কুল বন্ধ করে দেয়। ওইদিন মিড ডে মিল রান্নাও হয়নি। খবর পেয়ে পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা যান। স্কুল কর্তৃপক্ষ জলের ট্যাঙ্কটি পরিষ্কার করায়। কিন্তু, তারপরেও শুক্রবার স্কুলে অচলাবস্থা কাটেনি। পরিস্রুত পানীয় জলের একমাত্র সেটিই উৎস বলে অভিভাবকদের অনেকেই আতঙ্কে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হননি। স্কুলে উপস্থিতি ছিল নগন্য। পাশের হাই স্কুল থেকে জল এনে রান্না হলেও মিড ডে মিল খাওয়াতে নানা টালবাহানা চলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাবমার্সিবল পাম্প বসানো ও পাঁচিল দেওয়ার দাবিতে সরব হন। দাবি মেনে গৌরহাটি-১ পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্কুলে পৃথক একটি জলের ট্যাঙ্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Advertisement
শনিবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মধুমোহন নন্দী বলেন, এদিন স্কুল স্বাভাবিক হয়েছে। অধিকাংশ পড়ুয়াই স্কুলে এসেছিল। এদিনও হাই স্কুল থেকে জল এনে রান্না করা হয়েছে। মিড ডে মিল খেয়েছে পড়ুয়ারা। পৃথক একটি জলের ট্যাঙ্ক স্কুল বিল্ডিংয়ের ছাদে বসাতে প্রস্তুতিও শুরু করেছে পঞ্চায়েত। পিএইচই-র প্রকল্পের নলের সঙ্গে পাম্পের সাহায্যে পানীয় জল ট্যাঙ্কে তুলে নেওয়া হবে। সেই কাজ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।



