Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাবের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার দু’দিনের মধ্যেই প্রেমিকাকে বিবাহ, দার্জিলিংয়ে হানিমুনে যাওয়ার আগে পুলিসের জালে মালদহের যুবক

ট্যাবের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার দু’দিনের মধ্যেই প্রেমিকাকে বিবাহ, দার্জিলিংয়ে হানিমুনে যাওয়ার আগে পুলিসের জালে মালদহের যুবক
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্যাবের প্রতারণার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার দু’দিনের ম঩ধ্যে বিয়ে করে শ্রাবণ সরকার। পাত্রী আগে থেকেই ঠিক ছিল। এক যুবতীর সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেক আগের। কিন্তু অর্থের অভাবে বিয়ে করতে পারছিল না। ট্যাব প্রতারণার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়তেই কাউকে কিছু না জানিয়ে সে বিয়ে করে। আচমকা ছেলে বউকে নিয়ে বাড়িতে হাজির হওয়ায় বাবা, মা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিয়ে করলেও অষ্টমঙ্গলা হয়নি। তার আগেই তাকে পুলিস জালে তোলে। দার্জিলিংয়ে হানিমুনে যাওয়ার পরিকল্পনাও তার ভেস্তে যায়। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাব কেলেঙ্কারিতে ধৃত শ্রাবণের বাড়ি মালদহের বৈষ্ণবনগরে। তার সঙ্গে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পূর্ব বর্ধমানের ৮৫জন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা এই গ্যাংটি হাতিয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। শ্রাবণ সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে কাজে যোগ দেয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে নথি হাতিয়ে অনেকের নামে অ্যাকাউন্ট খোলে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই টাকা জমা পড়েছিল। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে সে টাকা তুলেও নেয়। জেরায় ধৃত জানিয়েছে, কলেজে পড়ার সময় উত্তর দিনাজপুরের কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা অনলাইন সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল। তাদের পরামর্শেই সে এই কাজে নামে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তার ‘বন্ধু’দেরও পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, প্রতারকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে প্রতারণা করেছে। পূর্ব বর্ধমানের স্কুলগুলি থেকে মালদহের বৈষ্ণবনগর গ্যাং টাকা হাতিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ঘটনায় যুক্ত চোপড়া গ্যাং। মুর্শিদাবাদের টাকা হস্তান্তরের ঘটনায় বিহারের প্রতারকরা জড়িত রয়েছে। এছাড়া রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলাতেও প্রতারকরা সক্রিয় ছিল। তবে অনেক অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রতারকরা টাকা তুলতে পারেনি। স্কুলগুলি অভিযোগ করার পরই তড়িঘড়ি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। শ্রাবণ অবশ্য সফল হয়েছে। সে প্রতারণার টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। তার বাবা জিতেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ছেলে ভালো ফুটবলার। সবার সঙ্গে ভালো পরিচয়। ও এধরনের ঘটনায় যুক্ত নয়। প্রতারণা করলে অনেক আগেই বিয়ে করতে পারত। খরচের ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে ও বিয়ে করে। বন্ধুদের খাওয়ানোর টাকাও আমি দিয়েছিলাম। ওর কাছে টাকা থাকলে ও নিজেই খরচ করত। পুলিস অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ধৃত যুবক আর্থিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। ও অনেক আগে থেকেই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত। এলাকার অনেকের ভোটার, আধার কার্ড নিয়ে সে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। ট্যাবের টাকা হাতে পাওয়ার পরই সে বিয়ের পিঁড়িতে বসে। ‘হানিমুনে’ তার দেদার টাকা খরচের পরিকল্পনা ছিল। পাহাড়ে গিয়ে কিছুদিন কাটিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করেছিল। কিন্তু সে সবকিছুই জলে গিয়েছে। পুলিস লকআপে তদন্তকারীদের প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত হতে হচ্ছে। চোখেমুখে ‘রোমান্সে’র লেশমাত্র নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ