Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাবের টাকা নিয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্টে নেই পূর্ব মেদিনীপুরের বহু পড়ুয়া

ট্যাবের টাকা নিয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্টে নেই পূর্ব মেদিনীপুরের বহু পড়ুয়া
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ট্যাবের টাকা নিয়েও টেস্ট পরীক্ষায় নেই অনেক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। আবার পরীক্ষার্থীদের অনেকেই ৩ ঘণ্টা ১৫মিনিটের পরীক্ষা মাত্র দু’ঘণ্টায় শেষ করে বাড়ির পথ ধরছে। উত্তরপত্র দেখে শিক্ষকরা অবাক। প্রায় সাদা খাতা! কেউ কেউ প্রশ্নটা‌ই টুকে দিচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন এমনই নানা ছবি উঠে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর 
Advertisement
জেলার বেশকিছু স্কুলে। এমন ঘটনায় ব্যথিত প্রধান শিক্ষকদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হতাশায় ডুব দিচ্ছেন।
সম্প্রতি ট্যাবের টাকা জালিয়াতি নিয়ে গোটা রাজ্য তোলপাড়। প্রতারিত হওয়া ছাত্রছাত্রীদের পুনরায় ১০হাজার টাকা করে পাঠিয়েছে রাজ্য। কিন্তু, যারা ট্যাব কেনার টাকা নিচ্ছে তারা সকলে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত নয়। দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা হতেই দেখা যাচ্ছে, বহু ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেনি। যেমন, ময়না আদর্শ বিদ্যায়নে দ্বাদশে মোট পড়ুয়া ১১৩জন। টেস্ট পরীক্ষায় বসেছে ১০১জন। বাকচা বিবেকানন্দ জনসেবা হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির মোট পরীক্ষার্থী ৪৯জন। প্রত্যেকেই ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে। টেস্ট পরীক্ষা হতেই দেখা যায়, ছ’জনের খোঁজ নেই। ভগবানপুর-১ব্লকের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠে দ্বাদশ শ্রেণির ১০৯জন ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে। টেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছে ৯৫জন। 
আবার কেউ কেউ নামমাত্র পরীক্ষা দিচ্ছে। ৩ঘণ্টা ১৫মিনিট ধরে পরীক্ষা দেওয়ার ধৈর্য নেই। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রস্তুতি না থাকায় উত্তর লেখার মতো রসদ মাথায় নেই। দেড়-দু’ঘণ্টা বসে পরিদর্শকদের হাতে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বাড়ির পথ ধরছে। এত দ্রুত উত্তরপত্র পেয়ে শিক্ষকরা কৌতূহলের সঙ্গে তাতে চোখ বুলিয়ে অবাক হচ্ছেন। কেউ ফাঁকা খাতা জমা দিয়েছে, কেউ আবার প্রশ্নটাই টুকে দিয়েছে। আর এসব দেখে বিবেকের তাড়নায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কাঁথি-১ব্লকের নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের বসন্তকুমার ঘোড়াই।
উচ্চ মাধ্যমিক-’২৫সালে পরীক্ষার জন্য সংসদ মনোনীত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাউন্সিলের জয়েন্ট কনভেনর হয়েছেন সমীর ভৌমিক। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বড়নান হাইস্কুলের শিক্ষক সমীরবাবু। তাঁর নিজের স্কুলেও ট্যাবের টাকা পেয়ে একাধিক পড়ুয়া টেস্ট পরীক্ষায় বসেনি। সমীরবাবু বলেন, ট্যাবের টাকা পেয়ে বিয়ে করেছে দু’জন পড়ুয়া। টেস্ট পরীক্ষায় না আসায় তাদের ফোন করেছিলাম। তারা জানিয়েছে, বিয়ে করেছে। তাই আসবে না। গোটা জেলায় বহু স্কুলে ট্যাবের টাকা পেয়েও দ্বাদশের অনেক ছাত্রছাত্রী টেস্ট পরীক্ষায় বসেনি।
উচ্চ মাধ্যমিকের মতো মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। বাকচা বিবেকানন্দ জনসেবা হাইস্কুলের টিচার ইন-চার্জ তপনকুমার সিনহা বলেন, ক্লাস টেনে ওঠার পর আমাদের স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টেস্টে বসানোর চেষ্টা করি। কিন্তু, সবক্ষেত্রে সফল হইনি। 
কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তবাবু বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন ৩০-৪০শতাংশ ছাত্রছাত্রী দু’ঘণ্টায় উত্তরপত্র জমা দিচ্ছে। অনেকেই পরীক্ষার হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকছে। বিন্দুমাত্র টেনশন নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে তিন ঘণ্টা বসে থাকার ধৈর্যটুকুও নেই। তাদের কাছে জ্ঞান অর্জন, পাশ করা অনেক পরের বিষয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ