Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাবের টাকা দেওয়ার তিনমাস আগেই ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এ ওত পাতে সাইবার প্রতারকরা

ট্যাবের টাকা দেওয়ার তিনমাস আগেই ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এ ওত পাতে সাইবার প্রতারকরা
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্যাবের টাকা দেওয়ার তিন মাস আগেই ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এ ওত পেতেছিল সাইবার প্রতারকরা। রাজ্য সরকার টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা অপারেশন শুরু করে। ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে টাকা দেওয়ার পর পুজোর ছুটি পড়ে যায়। মাঝে বেশ কয়েকদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। সেই সুযোগ প্রতারকরা কাজে লাগায়। তারা অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিলেও পড়ুয়ারা প্রথমে টের পায়নি। স্কুল খোলার পর তারা অভিযোগ জানায়। ততক্ষণে তাদের টাকা প্রতারকরা খরচ করে ফেলে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা জুলাই মাসে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে অ্যাকসেস নেয়। ওই পোর্টালে প্রতিটি স্কুলের পড়ুয়াদের সম্পর্কে তথ্য থাকে। সেই পোর্টালের মাধ্যমেই তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতারকরা জুলাই মাসে পোর্টালের ‘অ্যাকসেস’ নেওয়ায় পড়ুয়াদের সম্পর্কের তথ্য তাদের কাছেও পৌঁছে যায়। একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের চিহ্নিত করতেও তাদের সমস্যা হয়নি। সেই সময় থেকেই তারা কাজ শুরু করে। তবে দিনের পর দিন তারা পোর্টালে ঢুকে থাকলেও তদন্তকারীরা কেন তা টের পেল না? তা তদন্তকারীরাও ঠাহর করতে পারছে না। তাদের নজর বিকাশ ভবনের দিকেও রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, একসঙ্গে বহু স্কুলের পড়ুয়ার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ সহ আরও বেশকিছু জেলার স্কুলগুলির কোর্ড নম্বর এবং পোর্টালের পাসওয়ার্ড জোগাড় করা সহজ নয়। দপ্তরের সদর অফিস থেকে এধরনের তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এখনও বহু স্কুলের পড়ুয়া নতুন করে টাকা লোপাটের অভিযোগ করছে। তিনদিন আগে পূর্ব বর্ধমানেও নতুন করে অভিযোগ হয়েছে। প্রতারকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এই কাজ করেছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতদের জেরা করে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্কুলের টাকা হাতানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুলা‌ই মাসে সাইবার প্রতারকরা পোর্টালে অ্যাকসেস নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আর এক আধিকারিক বলেন, মালদহ থেকে চুক্তিভিত্তিক একজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পোর্টাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সে সরবরাহ করেছিল। তবে তার মাথার উপর আরও একজন  রয়েছে। সে প্রায়ই কলকাতায় যেত। কী কারণে সে হামেশাই সেখানে যেত তা খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সে জেরায় জানিয়েছে, কম্পিউটারের ব্যবসার জন্যই তাকে কলকাতা যেতে হতো। তবে ধৃতের এই দাবি কতটা সত্য সেটাই পুলিস তদন্ত করে দেখছে। ধৃত জেরায় আরও দাবি করেছে, পোর্টাল সংক্রান্ত তথ্য সে হাসেম নামে আর এক প্রতারককে দিয়ে দিয়েছিল। সে-ই অ্যাকাউন্টের টাকা হস্তান্তর করে।
সম্পর্কিত সংবাদ