Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাব কাণ্ডে সিট নেতৃত্বে মালদহের এএসপি

ট্যাব কাণ্ডে সিট নেতৃত্বে মালদহের এএসপি
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: শুধুমাত্র বৈষ্ণবনগরই নয়। ট্যাবকাণ্ডের জাল ছড়িয়ে মালদহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। তিন থানায় হওয়া অভিযোগের তদন্তে নেমে এমনই অনুমান আধিকারিকদের। এই প্রতারণা চক্রের শিকড় উপরে ফেলতে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল মালদহ জেলা পুলিস। যার নেতৃত্ব দেবেন অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর)। 
Advertisement
পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, এই ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। জেলার মাটি থেকে এর শিকড় আমরা উপড়ে ফেলব। 
হবিবপুর, গাজোল ও হরিশ্চন্দ্রপুর-১  ব্লকের তিনটি স্কুলের ১৪৩ জন ছাত্র ছাত্রীর ট্যাব কেনার টাকা চলে গিয়েছে অন্য অ্যাকাউন্টে। যা নিয়ে হবিবপুরের কেন্দপুকুর, গাজোলের ডিবি কেয়ার ও হরিশ্চন্দ্রপুরের কনুয়া ভবানীপুর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ সপ্তাহ খানেক আগে সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর করেছিল। জেলায় ট্যাব কেলেঙ্কারির সামগ্রিক ঘটনা নিয়ে ইংলিশবাজার থানায় এফআইআর করেন স্বয়ং জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক)। সব মিলিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় মালদহ জেলার বিভিন্ন থানায় এপর্যন্ত মোট পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানান পুলিস সুপার। 
পুলিস ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলে অতিরিক্ত পুলিস সুপার সম্ভব জৈনের সঙ্গে থাকবেন ডিএসপি (সাইবার ক্রাইম) লিওয়াং তামাং এবং সাইবার ক্রাইম থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা। বিশেষ তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা বিভিন্ন থানায় যাবেন। সেখানকার আইও-দের (ইনভেস্টিগেশন অফিসার) সঙ্গে কথা বলে আরও তথ্য জোগাড় করবেন তাঁরা। তদন্তের স্বার্থে আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতেও যাবেন। জেলার ১৯৩ জন ছাত্রছাত্রীর ট্যাব কেনার টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তা ইতিমধ্যেই লিড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করে ফেলেছে। তারপরেই অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। এবার দেখা হচ্ছে কোথা থেকে কীভাবে সেখানে টাকা ট্রান্সফার করা হল। আইপি অ্যাড্রেস ধরে গোড়ায় পৌঁছতে তদন্ত করবে বিশেষ তদন্তকারী দল। 
পুলিস সুপার আরও বলেন, অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর), ডিএসপি ডিআইবি, যিনি আমাদের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়িত্বেও রয়েছেন এবং সাইবার ক্রাইম থানার আইসি এই বিশেষ তদন্তকারী দলে থাকবেন। তারাই ট্যাব দুর্নীতির ঘটনার তদন্তের তদারকি করছেন। প্রতিদিন তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেবেন। 
মালদহ জেলার লিড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ পুলিস ও প্রশাসনের হাতে বেশকিছু তথ্য তুলে দিয়েছে বলে জানান পুলিস সুপার। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ